আইজিপি নিয়োগে নতুন রেকর্ড, যোগ্য চেহারা খুঁজতেই কী মেয়াদবৃদ্ধি?

0
28

পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দ্বিতীয় দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শুক্রবার (৫ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ভাস্কর দেবনাথ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেন। তবে পুলিশের ইতিহাসে মহাপরিদর্শকের দুইবার মেয়াদ বাড়ানোর ঘটনা এটাই প্রথম। এ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, বেনজীরকাণ্ডে পুলিশ মহাপরিদর্শকের ইমেজে লাগা কলঙ্ক মেটানোসহ একাধিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত।

পুলিশ মহাপরিদর্শকের দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে তার আগের চুক্তির ধারাবাহিকতায় ও অনুরূপ শর্তে ১২ জুলাই বা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে পুলিশের মহাপরিদর্শক পদে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হলো। এই নিয়োগের অন্য শর্ত অনুমোদিত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে।

এর আগে গত বছরের ৯ জানুয়ারি আইজিপি হিসেবে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের মেয়াদ দেড় বছর বাড়িয়েছিল সরকার।পুলিশের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বর্তমান পুলিশপ্রধান অবসরে গেলে ১২তম ব্যাচের কোনো কর্মকর্তাকে পুলিশপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হতো। ১২তম ব্যাচের প্রথম ব্যক্তি কাউন্টার টেরোরিজমের রুহুল আমিন। যিনি অতিরিক্ত আইজিপির সমমর্যাদার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) কামরুল হাসানের কথাও আলোচনায় ছিল।

তবে পুলিশপ্রধান হিসেবে সরকার এই বিকল্পগুলোকে সুবিধাজনক মনে করেননি। বরং চৌধুরী আল-মামুনকে রাখাটাকেই এই মুহূর্তে সঠিক মনে করেছেন। চৌধুরী আল মামুনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ বাড়ায় ১২তম ব্যাচের কেউই আর দৃশ্যত আইজিপি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, সম্প্রতি সাবেক আইজিপি বেনজীরের দুর্নীতি সামনে আসায় এবং পুলিশের কিছু কিছু দুর্বৃত্তায়ন এবং দুর্নীতির ঘটনায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

চৌধুরী আল মামুন চাকরিজীবনে বেশ পরিষ্কার একজন মানুষ। তাকে ঘিরে কোনো বিতর্ক নেই। সৎ, মেধাবী এবং নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বাহিনীতে পরিচিত। পুলিশপ্রধান হওয়ার পরও তার সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। এসব কারণ বিবেচনা করেই চাকরির মেয়াদ বাড়লো বলে সরকারের একাধিক সূত্র মনে করছে।

বিশেষ করে বর্তমানে পুলিশপ্রধানের ইমেজ নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে তাকে দিয়ে পুলিশে শুদ্ধি অভিযানও চালনো হতে পারে। তাকে দিয়ে বেনজীরকাণ্ডে পুলিশে সৃষ্ট ক্ষত পুনরুদ্ধারেরও চেষ্টা চলবে।

এদিকে বর্তমান আইজিপির মেয়াদ শেষে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, এমন আলোচনা এখন বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে। যেহেতু মেয়াদ বাড়ানোর কারণে ১২তম ব্যাচের কেউ দায়িত্ব পাচ্ছেন না সেক্ষেত্রে নতুন মুখ কে হচ্ছেন, তা ঘিরে রয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্য বলছে, চৌধুরী মামুনের পর পুলিশ প্রধান হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি অতিরিক্ত আইজিপির মর্যাদায় রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সরকার তাকে পরবর্তী পুলিশপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিতে চায়। এ কারণেই চৌধুরী আল মামুনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।