আফগানিস্তানে ‘জনগণের সরকার’ হলে মেনে নেবে বাংলাদেশ

0
12

আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখল করার পর এর প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আফগানরা যে সরকার গঠন করবে, তা বাংলাদেশও মেনে নেবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা জনতার সরকারে বিশ্বাস করি, আমরা গণতান্ত্রিক সরকারে বিশ্বাস করি। সে দেশের মানুষের যেটা ইচ্ছা, তারা যে সরকার গঠন করে, তাতে আমরা বিশ্বাস করবো। বাংলাদেশের সব সরকারের সাথে বন্ধুত্ব। যে সরকারই আমাদের থেকে সাহায্য-সহযোগিতা চাইবে, আমরা তাদের সাহায্য-সহায়তা দেব।’

সোমবার (১৬ আগস্ট) ঢাকায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তালেবান ক্ষমতা দখল করায় ঢাকার সঙ্গে কাবুলের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি-না জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, ‘আফগানিস্তান সার্কের সদস্য, আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। আমরা চাই তাদেরও উন্নতি হোক। আমরা সবাইকে নিয়ে সবার উন্নয়ন করতে চাই। নতুন যে সরকারই আসুক, সেটা যদি জনগণের সরকার হয়, তাহলে আমরা তাকে গ্রহণ করবো।’

তিনি বলেন, যদি তালেবান সরকার হয় এবং হয়েছে; এবং সেটা যদি জনগণের সরকার হয়, অবশ্যই তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা থাকবে।

বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার শুরুটা আফগানিস্তানের তালেবানের হাত দিয়েই হয়েছিল বলে মনে করা হয়। আগের মতো এবারও কিছু বাংলাদেশি তালেবানের আহ্বানে ‘হিজরত’ করেছে বলে সম্প্রতি জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, তালেবান না, কিছু সন্ত্রাসী আমাদের দেশে ছিল, তারা আফগানিস্তান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছিল, আমরা সেগুলো উচ্ছেদ করেছি, আমাদের দেশে সে সন্ত্রাসী আর নাই। আমরা আশা করি, সেই সন্ত্রাসী আর তৈরি হবে না।’

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান তালেবানের শাসনে ছিল। এর মধ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদার নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট সেখানে যৌথ অভিযান চালায়, যার মাধ্যমে তালেবান শাসনের অবসান ঘটে।

অভিযানে আল-কায়েদার শীর্ষ নেতাদের দমন করা হলেও ‘শান্তিরক্ষার স্বার্থে’ সেখানে ঘাঁটি গেড়ে অবস্থান করছিল পশ্চিমা সেনারা। কিছু বছর পার হওয়ার পর সেখান থেকে ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্র বাদে অন্য দেশের সেনাদের ফিরিয়ে নেয়া হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সেনাদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করলে প্রত্যন্ত এলাকা দখল করে থাকা তালেবান কাবুলের ক্ষমতার মসনদে উঠতে জোর লড়াইয়ে নামে। যদিও এর মধ্যে তালেবানের সঙ্গে কাবুলের শাসকগোষ্ঠীর সংঘাতের অবসানে কাতারসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতায় বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সব আলোচনাই ভেস্তে গেছে।