করোনার মাঝে জীবন ও জীবিকার জন্যে, মানুষের জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা জরুরি মনে করি।…

0
248

কাজী হাবিব রেজা
দেশের মানুষের উপলব্ধি করার সময় এসেছে করোনার মাঝে সামনের দিনগুলোতে জীবন ও জীবিকার জন্য কিভাবে তারা জীবন যাপনে অভ্যস্হ হবেন। না হয় ভবিষ্যতে বেঁচে থাকাটা হবে খুবই কঠিন। ঈদ উদযাপন করবেন ? নাকি বেঁচে থাকবেন আগামী দিনে সোনালী মূহুর্তেগুলোর জন্যে।

সরকার জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে লকডাউন কিছুটা শিথিল করেছে। এই সুযোগটাকে আমরা নিলামে তুললাম। হায়রে মানুষ এখনতো বুঝতে পারছেন না। যখন সত্যিকারে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন তখন আর বুঝে কোন লাভ হবে না! এখননি নিজেকে পরিবর্তন করে চলাফেরায় শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
মাস্ক পরিধান ও ঘনঘন হাত ধৌত করতে হবে।
ব্যবসায়িক বা কোন কারণে ঘরের বাইরে গেলে এসে কাপড় গায়ের কাপড় একটা ঘন্টা সাবান পানিতে বিজয়ে রাখতে হবে। এবং দেরি না করে গোসল সেরে নিতে হবে।

যেসব নিয়মনীতি অনুসরণ করলে কোরোনায় আক্রান্ত হবেন না সেগুলো পালন করতে হবে। এভাবেই আমাদের জীবনযাপনে অভ্যস্হ হতে হবে। চালিয়ে যেতে হবে সাবধানে দৈনন্দিন কাজকর্ম।

প্রতিদিন এক এক করে সুস্থ মানুষগুলো করোনা আক্রান্ত হয়ে চোখের সামনেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তারপরও এক শ্রেণির মানুষ সচেতন হচ্ছে না সরকারের নির্দেশনাও মানছে না। আর করোনাকেও ভয় করছে না। সরকার বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কড়াকড়ি লকডাউন করা হয়তো কখনও সম্ভব হবে না।

উপলব্ধি করার সময় এসেছে সামনের দিনগুলোতে জীবন ও জীবিকার জন্য কিভাবে আমরা জীবন যাপনে অভ্যস্হ হবো। কিভাবে নিরাপদ এ থাকবো পরিবার পরিজনদেকে সাথে নিয়ে, বেঁচে থাকবো আগামীর দিনগুলোতে। কারণ এভাবে চললে দুই থেকে তিন বাস পরে মানুষের মাঝে চরমভাবে হতাশ ও দারিদ্রতা দেখা দিবে। করোনা হয়তো দুই থেকে পাঁচ বছরও স্হায়ী হতে পারে। করবোনার মাঝে আমাদেরকে জীবনের জন্য জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। পরিবর্তন করতে হবে জীবনযাপনের পদ্ধতি।

জীবন ও জীবিকার জন্য এখনই সুষ্টু ব্যালেন্সিং ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে সরকারসহ সবমহলকে। সরকারের সহানুভূতির সুযোগ নিয়ে দেশের একশ্রেণির মানুষ চলাফেরা ও অসচেতনতা দেখে মনে হচ্ছে, তারা নিজেরাই এই ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে করোনা মহামারিতে নিজেরাই ‘ হার্ড কমিউনিটি ‘পদ্ধতি তৈরি করতে চাইছে ।

ভাইয়েরা আমাদের মতো জনবহুল দেশে করোনাভাইরাসে হার্ড ইমিউনিটি পদ্ধতি কি কোন সুফল আসবে?
করোনাভাইরাসের এখনও কোন প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তাহলে এটি মোকাবেলায় হার্ড ইমিউনিটি কিভাবে কাজ করবে?

এক্ষেত্রে বলা হচ্ছে যে, যারা একবার ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়, তাদের মধ্যে ওই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়।হয়তো এটা সত্যি।

এভাবে বেশি মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে থাকলে এক সময় বড় সংখ্যক মানুষের মধ্যে ভাইরাসের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। যার কারণে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি সুরক্ষা বলয় তৈরি হয় এবং ওই রোগটির সংক্রমণ থেমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি কাজ করাটা কঠিন। কারণ, তারা মনে করেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তুলতে হলে ৯০ ভাগের বেশি সংখ্যক মানুষ এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হতে হবে।

শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেনের মতো দেশ হার্ড ইমিউনিটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভেবেছিল। শুরু থেকেই সুইডেনে তেমন একটা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে দেখা যায়নি। শেষে সেই দেশগুলোতে মৃত্যুর মিছিল দেখেছিল বিশ্ব। পরে তারা এ-ই পদ্ধতি থেকে সরে আসে।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হার্ড ইমিউনিটি এটা এখনো স্বীকৃত কোন পদ্ধতি নয়। তবে অনেকে মনে করেন যে এটা একটা উপায় হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি ২.৫ জন ব্যক্তিকে আক্রান্ত করতে পারে।
করোনাভাইরাসে হার্ড ইমিউনিটি হতে হলে অন্তত ৯০ ভাগ মানুষ সংক্রমিত হতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে ৯ জন আক্রান্ত হতে হবে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি হতে হলে যদি দেশে ১৭ কোটি মানুষ থাকে তাহলে প্রায় ১৬ কোটি মানুষকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে হবে।

আর যদি ১৬কোটি মানুষ আক্রান্ত হয় এদের মধ্যে যদি ০.০০১ ভাগ মানুষেরও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তাহলে যে বিশাল সংখ্যক মানুষের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার হবে, বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বাস্তবতায় সেটা সরবরাহ করা কি সম্ভব ?
আর এ কারণেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে মারাত্মক হারে।যেমনটা মৃত্যুর হার বাড়ছে আমেরিকাসহ উন্নত রাস্ট্র গুলোতে।

তাই বলছি সরকারের সমালোচনা না করে, ঈদ উদযাপন বাদ দিয়ে আসুন নিজেদের জীবন ও জীবিকার জন্য জীবনযাপনের নিয়মনীতি পরিবর্তন করে কিভাবে পরিচালনা করবেন নিজেরাই ঠিক করে নিন। শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন নিজে বাঁচুন পরিবারকে বাঁচান দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখুন। রাস্ট্রীয় নির্দেশনায় আস্থা রাখুন।