করোনা আতঙ্কে এলো না কেউ, লাশ নিলেন প্যানেল মেয়র মিজান

0
184

বোয়ালখালী প্রতিনিধিঃ বোয়ালখালীতে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে হাসপাতালে পড়ে থাকা লাশের কাছে যেতে চান না কেউ। করোনার উপসর্গ ছাড়া মারা যাওয়া এক ব্যক্তির লাশ দাফনে এগিয়ে এলেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহাজাদা এস,এম মিজানুর রহমান। নিজেই দায়িত্ব নিলেন লাশ দাফনের । উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিশ্চিত করে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু। বৃহস্পতিবার ( ১৬ এপ্রিল) উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে অবশেষে উপজেলার সৈয়দপুর তৈয়্যবিয়া কমপ্লেক্সের কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশটি দাফন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়-গত ১৪এপ্রিল সন্ধ্যায় গোমদন্ডী ফুলতলে রাস্তায় পড়ে থাকা অসুস্থ এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ১৬এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি হৃদযন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। নানান লক্ষণে প্রমাণিত হয় তিনি মুসলিম। তবে তাঁর কোনো ওয়ারিশ পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের তদারকি লাশ দাফনে সার্বিক সহযোগীতা করেন,হাজী শেখ সালাউদ্দিন পোপাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস,এম জসিম উদ্দিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এমসি রিদুয়ানুল করিম,গাউসিয়া কমিটি বোয়ালখালী শাখার সভাপতি নুরুল ইসলাম চৌধুরী মুন্সী, সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম,শেখ শরফুদ্দিন,বঙ্গুবন্ধু স্মৃতি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম খান শিমুল,মৌলানা মোকারম,তৈয়্যবিয়া কমপ্লেক্সের ইমাম মাওলানা সোলায়মান,মাওলানা কাজী এম এ জলিল, স্থানীয় সাংবাদিক সেকান্দর আলম বাবর,জাবেদ হোসেন, শেখ কুতুব উদ্দিন, লোকমান হিরু গোরস্থানে কবর খুঁড়েন মো. সেলিম, ইয়াছিন মোরশেদ, শেখ রিদুয়ান (দরবেশ), মো. ইদ্রিচ প্রমুখ।

স্থানীয় সাংবাদিক সেকান্দর আলম বাবর বলেন, রাত ১০ হঠাৎ মিজান ভাইয়ের ফোন বলল, বেওয়ারিশ লাশ দাফন করতে হবে, আমি তাৎক্ষানিক ছুটে গেলাম,রাত ২টায় লাশবাহী গাড়ী নিরবে সাইরেনবিহীন শান্ত মেজাজে এসে দাঁড়ায় তৈয়্যবিয়া কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে,নেই স্বজনের কান্না। কাফন পড়ানো হয় লাশের। আমরা লাশ দাফনের নানান কাজে ব্যস্ত থাকা হাতে গোনা মানুষগুলো করোনা ভীতির এ চরম অসময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জানাজা সম্পন্ন করি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পৌর প্যানেল মেয়র শাহজাদা এসএম মিজনুর রহমান বলেন,রাত অনুমান ১০ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে ফোন করে উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স এ অজ্ঞাত পরিচয়ের একজনের মৃতুর বিষয়ে অবগত করে উক্ত লাশের কোন পরিচয় না পাওয়ায় মানবিকতার স্বার্থে লাশটি দাফন কাফনের ব্যবস্হা গ্রহণের অনুরোধ করেন।উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্রেক্স এবং থানার ওসির সাথে আলাপ করে আমি অন্যান্য লোকজন নিয়ে মানবিক কারণে লাশটি দাফন কাফনের কাজ সস্পাদন করি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে