কোটা আন্দোলনকারীদের একটু ধৈর্য ধরতে বললেন এটর্নি জেনারেল

0
20

কোটা বাতিলের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বাংলা ব্লকেড’ পালন করছেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি বাতিলের হাইকোর্টের রায়ের অপেক্ষায় রাষ্ট্রপক্ষ। রায় পেলেই দ্রুত লিভ টু আপিল দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ হয়নি।

সোমবার নিজ কার্যালয়ে রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্ট কোটা বাতিল করে রায় দিয়েছে। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল বিভাগে গেছে। আমরা আইনগত বিষয়টি দেখছি । কোটা থাকা না থাকার বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এখানে আদালত কতটুকু হস্তক্ষেপ করতে পারে, সেটাই আদালতের সামনে তুলে ধরেছি।’

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট একটা রায় দিয়েছে। বিষয়টি এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন। আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে রাজপথে আন্দোলন না করলেই ভালো হতো। ওনারা কেন আন্দোলন করছেন সেটা আমি জানি না। আমি তাদের (আন্দোলনকারীদের) একটু ধৈর্য ধরার অনুরোধ করব।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমরা হাইকোর্টের লিখিত রায়ের অপেক্ষায় আছি। রায় পেলেই বুধবারই আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দাখিল করব।’ বৃহস্পতিবার আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসতে পারে বলেও জানান তিনি।

কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকারি চাকরিতে নবম থেকে ত্রয়োদশতম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ঐ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, ‘সরকার সকল সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত/আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ সম(বিধি-১)এস-৮/৯৫(অংশ-২)-৫৬(৫০০) নং স্মারকে উল্লিখিত কোটা পদ্ধতি নিম্নরূপভাবে সংশোধন করিল : (ক) ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হইবে; এবং (খ) ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হইল।’

কোটা বাতিল করে জারি করা এই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ওহিদুল ইসলামসহ সাত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। রিটে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তাদের পোষ্যদের ৩০ ভাগ কোটা সংরক্ষণের আবেদন জানানো হয়। ঐ আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। জারিকৃত ঐ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সরকারি চাকরির ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ বিদ্যমান কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। গত ৫ জুন বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। এই রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৯ জুন চেম্বার আদালতের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম রায় স্থগিত না করে স্থগিত আবেদনটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। সেই মোতাবেক গত ৪ জুলাই হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে উত্থাপিত হয়। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন আদালতে বলেন, আগে কোটা ছিল। ২০১৮ সালে কোটাপদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করে সরকার। সেই পরিপত্র রায় দিয়ে বাতিল ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। যদিও কোটাপদ্ধতি থাকবে কি থাকবে না, এটা সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়। আপিল বিভাগ বলে, আপনারা সিপি (লিভ টু আপিল) দাখিল করেন । রাজপথে আন্দোলন করে কি হাইকোর্ট/সুপ্রিম কোর্টের রায় পরিবর্তন করা যায়?