চট্টগ্রামে বিচারককে জুতা ছুড়ে মেরেছে বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তিকারী মামলার আসামি

    0
    15

    চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইবুনালের বিচারক কে এজলাসে জুতা ছুড়ে মেরেছে বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তিকারী মামলার আসামি । অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন না মর্মে ওকালত নামা প্রত্যাহার করে নেন নিযুক্ত আইনজীবী।

    আদালত সূত্রে জানাযায় আজ ২৮ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে যথা নিয়মে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ জহিরুল কবির আদালতের এজলাসে উঠেন। এসময় কিছু বুঝে উঠার আগেই ডকে থাকা আসামি পা থেকে জুতা খুলে বিচারককে লক্ষ্য করে পর পর দুটি সেন্ডেল ছুড়ে মারে। একটি সেন্ডেল বিচারকের গায়ে পরলেও অপরটি লক্ষ্যভষ্ট হয় বলে জানান উপস্থিত আইনজীবি। এসময় আদালত থাকা আইনজীবী ও পুলিশ উক্ত আসামি কে নিবারন করে, এই ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েন বিজ্ঞ বিচারক সহ উপস্থিত আইনজীবিগন।

    মামলার সূত্রে জানাযায় ২০২১ সালে মনির খান মাইকেল নামে এক ফেরীওয়ালা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্য মন্ত্রী হাসান মাহমুদ সহ ব্রামনবাড়িয়া স্হানীয় এমপি’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন কটুক্তি মূলক পোষ্ট দেয়। এই ঘটনায় ব্রামন – বাড়িয়া নাসিরনগর থানার এস আই তপু সাহা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এই মামলায় আসামি মনির খান মাইকেল গ্রেপ্তার হয়ে জামিন লাভ করে পলাতক হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করলে সেই ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার হয়ে আবার জেলে যায় আসামি । আজ ধার্য্য তারিখে আসামি মনির খান মাইকেল কে জামিন শুনানির জন্য কোর্টে আনা হলে অকস্মাৎ আসামি এই ঘটনা ঘটায়।

    আদালত উপস্থিত বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় আদালতে সবাই হতবাক, দুঃখজনক অপ্রত্যাশিত। সবাইকে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। কোর্ট ইন্সপেক্টর জাকির হোসেন বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আদালত আসা মনির খান মাইকেলের নিকটাত্মীয় জাবেদ হোসেন বলেন, এই মাইকেল অশিক্ষিত পড়ালেখা জানে না, পাড়ায় পাড়ায় কসমেটিক ফেরী করে সংসার চালায়। তার মোবাইল মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার পর কে তার ফেইসবুক আইডি ব্যাবহার করে এই ধরনের পোস্ট দিয়েছে সে জানে না।
    আসামির নিযুক্তিয় আইনজীবী নুরুজ্জামান হোসাইন বলেন কেন আসামি এমন ঘটিয়েছে তা বুঝতে পারছি না, এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি এবং এই আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করবো না মর্মে লিখিত ভাবে প্রত্যাহার করে আদেশ চেয়েছি।
    আইনজীবী সমিতি সাধারণ সম্পাদক বজলুল রশিদ বলেন এধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্হিতি এড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।