ছাতকে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

0
5

ভারি বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো ছাতকের ১৩টি ইউপি ও একটি পৌরসভার ৪ শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন বলে ইউএনও নিশ্চিত করেছেন।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে সুরমা, চেলা ও পিয়ান নদীর পানি। বর্তমানে এসব নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ ছাতক, জালালপুর দীঘলী, কৈতক হায়দরপুর, বুড়াইর গাঁও, আলমপুর, জালালপুর রাজারগাঁও, তাজপুর নুরুল্লা, বুগারভাঙ্গা ভুইগাঁওসহ ৫টি পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় উপজেলার সঙ্গে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বেশির ভাগ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ঘরে এক প্রকার বন্দি অবস্থায় রয়েছে। নৌকা অভাবে উদ্ধার করা যাচ্ছে না।

উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তীসহ এর আশপাশের সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবল বেগে ঢলের পানি প্রবেশ করছে। ধনীটিলা-ছনবাড়ী বাজার সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বন্যার পানি। পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে এ সড়কের বিভিন্ন অংশ। ইউনিয়নের নিজগাঁও রতনপুর, ছনবাড়ী, নোয়াকোট, রহমতপুর, বনগাঁও, দারোগাখালী, বৈশাকান্দি, সৈদাবাদ, বাহাদুরপুরসহ ৭০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ধানের বীজতলা ও শাক সবজির বাগান ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দু শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করছে।

গত রোববার পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ছাতক উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম কিরন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তাফা মুন্নাসহ প্রশাসনের লোকজন।

সোমবার বিকালে উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের বুড়াইরগাও আলমপুর পাকা সড়কটি হায়াতপুর ও গিলাছড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের ফলে তিনটি ইউপির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদী পানি বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ, ছাতক-জাউয়া, ছাতক-দোয়ারা ও ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়ক সহ বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কিছু কিছু সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

উপজেলার কালারুকা, নোয়ারাই, উত্তর খুরমা, জাউয়া, চরমহল্লা,ভাতগাঁও, সিংচাপইড়, ছৈলা আফজলাবাদ, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, দোলারবাজার, দক্ষিণ খুরমা, ছাতক সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ও সড়ক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পৌরসভার নিম্নাঞ্চলে ও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

বন্যা মোকাবেলার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তাফা মুন্না জানান, ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন তিনি। ৬৭টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুতসহ প্রাথমিক সব ধরনের প্রস্তুতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নদ নদীতে এখনো পানি বাড়ছে।