ছিলেন টিভি উপস্থাপক, হয়ে গেলেন শরণার্থী 

0
22

মার্কিন বাহিনীকে হটিয়ে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা নিলে বিশেষ করে ব্যাপক পরিবর্তন আসে নারীদের জীবনে। কঠোর নিয়ম জারির কারণে অনেক নারী এখন স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছেন না। আবার যারা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বাধ্য হয়ে তাদেরকেও পেশা ছাড়তে হয়েছে। পেশা ছাড়া এমনই একজন হলেন শবনম দাওরান।

তিনি আফগানিস্তানে শবনম টিভিতে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু দেশটির ক্ষমতা পালাবদলের পর তাকে তার পেশাও ছাড়তে হয়।

নিজ দেশে আরাম আয়েশে জীবন পার করলেও তিনি এখন যুক্তরাজ্যে শরণার্থী হয়েছেন। বিবিসির কাছে সেই শরণার্থী হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন তিনি।

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট দেশটির রাজধানী কাবুলের উপকণ্ঠে পৌঁছে গেছে তালেবান যোদ্ধারা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ২৪ বছর বয়সী শবনম সেই খবর জানাতে ‘অন-এয়ারে’ গিয়েছিলেন।

তখনকার পরিস্থিতি সম্পর্কে শবনম বলেন, ‘আমি এতটাই আবেগপ্রবণ ছিলাম যে প্রধান সংবাদ পর্যন্ত পড়তে পারছিলাম না। যারা (দর্শক) বাড়িতে বসে আমাকে দেখেছেন, তারা বলতে পারবেন, আমি কি অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম।

পরের দিন সকালে শবনম যখন ঘুম থেকে ওঠেন, তখন তালেবানের হাতে কাবুলের পতন ঘটে গেছে।

কাবুল দখলের পর তালেবান ঘোষণা দেন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাজ করতে পারবেন। সেই আশা নিয়েই তিনি পরের দিন কাজের পোশাক পরে কর্মক্ষেত্রে যান। কিন্তু তিনি টিভি স্টেশনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তালেবান যোদ্ধাদের সামনে পড়েন। তারা ভবনটি পাহারা দিচ্ছিলেন। তারা শুধু পুরুষ কর্মীদের ভবনে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছিলেন।

শবনম বলেন, একজন তালেবান যোদ্ধা তাকে বলেছিলেন, ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তানে তারা এখনো নারীদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

তখন শবনম বলেছিলেন, তার কাজ করার অধিকার আছে, ঠিক তখন এক তালেবান যোদ্ধা শবনমের দিকে রাইফেল তাক করেন। রাইফেলের ট্রিগারে আঙুল রেখে তিনি বলেন, আপনার জন্য একটি গুলিই যথেষ্ট। আপনি চলে যাবেন নাকি আমি আপনাকে এখানেই গুলি করে দেব?

পরবর্তীতে তিনি এ ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করলে তার পরিবারের সদস্যরা হুমকির মধ্যে পড়েন। এরপরই তিনি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তার এই অনিশ্চিত যাত্রায় সঙ্গী হন দুই ভাই-বোন—মিনা ও হেমাত।

যুক্তরাজ্যে পা রেখে নতুন ও কঠিন এক জীবনের মুখোমুখি হন শবনম। এ জীবন শরণার্থীর। তার ইংরেজি জানা ছিল না। ফলে তাকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তার জন্য চাকরির সম্ভাবনাও সীমিত।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে থাকার জন্য একটি বাসা পেয়েছেন শবনম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের জীবন এখন শুরু হয়েছে। আমরা নতুন শিশুর মতো, যাদের শুরু থেকে শুরু করতে হয়।