ঝোপ বুঝে ভারতের কোপ, দেশের পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা

    0
    11

    ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছে ভারত। ফলে অস্থিরতা বাড়ছে দেশের পেঁয়াজের বাজারে। এই সুযোগে বাড়তি মুনাফা করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের দূরদর্শিতার অভাবে সাধারণ মানুষ ভুগছে। আর এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু আমদানি অনুমতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

    ৪০ টাকার ভারতীয় পেঁয়াজ এখন ৭০ টাকা ছাড়িয়েছে। আর দেশি পেঁয়াজ কোথাও শতকের ঘর ছুঁয়েছে। ভারত সরকারের শুল্কারোপের সিদ্ধান্তের পর গত এক সপ্তাহ ধরে এমন বেসামাল পেঁয়াজের বাজার।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার প্রতি টন পেঁয়াজের এলসি মূল্যও বাড়িয়েছে ভারত। যেকোনো সময় রপ্তানি বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

    ব্যবসায়ীরা বলেন, আগে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় যে এলসিগুলো খোলা ছিল, সে পণ্য আজকে ঢুকতে দিচ্ছে না। এলসিগুলো সংশোধন করে ৩৫০ থেকে ৩৮০ এর মধ্যে করে নিতে হবে, তবেই পণ্য ঢুকবে। এছাড়া ঢুকবে না।

    তারা আরও বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন বাংলাদেশের আমদানিকারকরা বার্মা, চায়না, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা করবে।

    তথ্য বলছে, গত আড়াই মাসে ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৬৭ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দেশে এসেছে মাত্র ২৮ শতাংশ, যা শুধু ভারত থেকে। বাড়তি খরচের অজুহাতে বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছেন না আমদানিকারকরা।

    Advertisement

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের দূরদর্শিতার অভাবে ভুগছে সাধারণ মানুষ। আর যথাযথ পদক্ষেপ না থাকায় এই সুযোগে বাড়তি মুনাফা করছে অসাধু সিন্ডিকেট।

    বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আজিজুর রহমান বলেন, ভারত এই কাজটি (ভারত সরকারের শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত) প্রথমবার করেনি। এর আগেও একাধিকবার হঠাৎ করে শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে আমরা বিপাকে পড়ে যাই। আমরা যাতে সমস্যায় না পড়ি তাই এর জন্য সরকারের ব্যাকআপ পরিকল্পনা রাখা উচিত ছিল। এখন সরকার কিন্তু কোনো কথা বলছে না, অথচ এই বিষয়ে সরকারের পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি দেয়া উচিত।

    নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি পেঁয়াজের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দাম নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলেও মনে করেন সরকারের সাবেক এই কর্মকর্তা।