টি২০ বিশ্বকাপ : ভারতের দ্বিতীয় নাকি দ. আফ্রিকার প্রথম

0
5

স্পোর্টস ডেস্ক,  সিএনএন বাংলাদেশ :: মঞ্চ প্রস্তুত। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই বার্বাডোজে শুরু হবে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল।

যেখানে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় শিরোপা জেতার লক্ষ্যে মাঠে নামবে ভারত। অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠা দক্ষিণ আফ্রিকা রয়েছে প্রথম শিরোপার খোঁজে।
২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই শিরোপা জিতে নেয় ভারত। কিন্তু এরপর ক্রিকেটের অলিখিত সুপার পাওয়ারদের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে ১৩ বছর।

সেই আক্ষেপ এবার ঘোচানোর সুযোগ তাদের সামনে। দক্ষিণ আফ্রিকার আক্ষেপ আরও দীর্ঘ।
ক্রিকেটের অনেক পুরনো সদস্য এই দেশটি এবারই প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলছে। যেখানে তাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে দারুণ ছন্দে থাকা ভারতকে। ম্যাচটি জিতলেই ইতিহাস গড়ে ফেলবে প্রোটিয়ারা। বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ীদের তালিকায় যুক্ত হবে নতুন নাম।
বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার অতীত খুব বেদনাদায়ক। এর আগে সাতবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলে একবারও ফাইনালে উঠতে পারেনি তারা। এর মধ্যে পাঁচবার ওয়ানডে ও দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছে প্রোটিয়ারা। এমনকি জ্যাক ক্যালিস, অ্যালান ডোনাল্ড, শন পোলক, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডেল স্টেইন, ল্যান্ড ক্লুজনার- যাদের ক্রিকেটের কিংবদন্তি মানা হয়; তারাও পারেননি শিরোপার মুখ দেখতে।

১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিতে বৃষ্টি আইনে ইংল্যান্ডের কাছে হারতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এরপর ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ডোনাল্ডের রান-আউট এবং হার্শেল গিবসের ক্যাচ মিসে বিদায় নিতে হয়। যদিও অস্ট্রেলিয়ার সমান রান করেছিল প্রোটিয়ারা। কিন্তু আগের দেখায় হেরে যাওয়ায় সেমিতেও হার সঙ্গী হয় তাদের। আর ২০১৫ বিশ্বকাপে শেষ চারের লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারতে হয় সেই বৃষ্টি আইনে। স্টেইনের শেষ ওভারে ১৩ রান নিয়ে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন কিউই ব্যাটার গ্র্যান্ট এলিয়ট।

তবে এবার চিত্রটা অনেকটাই বদলে গেছে। একের পর এক ক্লোজ ম্যাচ জিতে চমকে দিয়েছে ‘চোকার্স’ অপবাদ পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় প্রতিটি ম্যাচই শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে জিতেছে তারা। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৭ বল হাতে রেখে, বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪ রানে, নেপালের বিপক্ষে ১ রানে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ রানে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ বল হাতে রেখে জয় পেয়েছেন মার্করামরা। ফলে চোকার্স অপবাদ এবার প্রায় ঘুচেই গেছে। আর একটা ম্যাচ জিতলে পুরোপুরি মুক্তি মিলবে তাদের।

অন্যদিকে ভারত আট মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে। গত বছর ঘরের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা হেরে যায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে। তবে সেই দুঃখ ভুলে যাওয়ার সুযোগ তাদের সামনে। রোহিত শর্মার অধীনে দলটি এবার দুর্দান্ত ফর্মে আছে। এবার শিরোপার ঘ্রাণ পেয়ে বার্বাডোজে হাজির হয়েছেন হাজারো ভারতীয় সমর্থক।

ভারত সর্বশেষ বিশ্বকাপের স্বাদ পেয়েছে ২০১১ সালে। ঘরের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতার পর একবার ওয়ানডে ও একবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে তারা। এছাড়া চার বার সেমিফাইনালেও খেলেছে ভারত। কিন্তু ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই), যারা আইসিসির মোট আয়ের ৪০ শতাংশ পেয়ে থাকে; তারাও একযুগের বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। তবে এবার তাদের সমর্থকরা শিরোপা ঘরে তোলার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এবারের ভারতীয় দলটি চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলছে। একমাত্র পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বাদে প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষ দলকে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের বিশাল জয় নিশ্চিতভাবেই ভারতকে শিরোপার দাবিদার বানিয়েছে। যদিও দলটির মূল দুশ্চিন্তা সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা বিরাট কোহলিকে নিয়ে।

৭ ম্যাচের ৫টিতেই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি কোহলি। সর্বোচ্চ স্কোর ৩৭ রান, বাংলাদেশের বিপক্ষে। তবে ভারতের অধিনায়ক রোহিতের বিশ্বাস, ফাইনালের জন্য সেরাটা জমিয়ে রেখেছেন কোহলি। দক্ষিণ আফ্রিকার অবশ্য দুশ্চিন্তার তেমন কিছু নেই। কারণ ফাইনাল পর্যন্ত আসাই তাদের সেরা অর্জন। সেটাও জিতে গেলে তো সোনায় সোহাগা। না জিতলেও ইতিহাস গড়েই বাড়ি ফিরবে প্রোটিয়ারা।

এদিকে আজ ফাইনালের আগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে অবশ্য রিজার্ভ ডে আছে। কিন্তু রিজার্ভ ডে’তেও যদি বৃষ্টি হানা দেয়। তাহলে কী হবে? ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হবে। সেটাও হবে নতুন ইতিহাস। এমন হলে দুই দলেরই লক্ষ্য পূরণ হবে। ভারত জিতবে দ্বিতীয় শিরোপা, দক্ষিণ আফ্রিকা ঘরে তুলবে প্রথমটি।