‘টেলিভিশনে লম্বা লম্বা কথা না বলে হাসপাতালে রোগীর পাশে দাঁড়ান’

0
21

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম টেলিভিশন টকশোতে অংশগ্রহণকারী রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, আমাদের অনেক জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ যারা একদিনও কোনো রোগীর পাশে গিয়ে দাঁড়াননি, তারা রোগতত্ত্ব গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ছিলেন; তারা তখন কী করেছিলেন? তারা এখন টেলিভিশনে বসে টকশোতে লম্বা লম্বা কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি বলি আমাদের পাশে আসেন, আপনার যে প্রজ্ঞা আছে, যে জ্ঞান আছে, সেটা আমরা কাজে লাগাই। আপনি আমাদের সহযোদ্ধা হোন, আমাদের সাথে হাসপাতালে চলুন, হাসপাতালে রোগীর পাশে দাঁড়ান। সেটা না করে ওই নিরাপদ বাক্সের মধ্যে বসে এই টেলিভিশন থেকে ওই টেলিভিশন, ওই টেলিভিশন থেকে এই টেলিভিশনে গিয়ে নানান ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। এটা দেশবাসীকে যেমন বিভ্রান্ত করছে, আমাদের আশাহত করছে, আমাদের কাজ থেকে মন ফিরিয়ে নিচ্ছে।

বুধবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত করোনাবিষয়ক এক জুম কনফারেন্সে তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য মহাপরিচালক তাদের (রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের) উদ্দেশ্যে আরও বলেন, এটা যদি হয় সেটা কি দেশের জন্য মঙ্গল হবে, আপনারা বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ, আপনারা দীর্ঘদিন এ দেশকে সেবা দিয়েছেন, এই সরকারেরই চাকরি করেছেন আপনারা, এই সরকারেরই সব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, আজ আপনারা পিআরএলে গেছেন, আজ আপনারা রিটায়ার করেছেন; তার মানে এই না যে আপনি আপনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে গেছেন। আপনি এমন কথা বলতে পারেন না যে কাজটা আপনি করতেন আগে, সেই কাজটার বিরূপ সমালোচনা আপনি করতে পারেন না। এটা অত্যন্ত অন্যায়, গর্হিত অন্যায় এবং দেশবাসীর প্রতি আপনার, আপনাদের যারা একটা করছেন, আমি বলব যে এটি তাদের সবার দায়িত্বহীনতার পরিচয়।

তিনি বলেন, আজ আমার ভাষা আপনাদের কাছে রূঢ় মনে হতে পারে, আমার বক্তব্য আপনাদের কাছে খারাপ মনে হতে পারে, মনে হতে পারে আমি ব্যক্তিবিশেষকে আক্রমণ করছি। এটা সম্পূর্ণ ভুল। আমি এটা দেশের পক্ষ থেকে জনগণের পক্ষ থেকে, আমার নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রী) পক্ষ থেকে, আমার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে, আমার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের শুধু প্রতিবাদের ভাষা জানালাম। এটা যদি আপনাদের কাছে বিরূপ মনে হয়, হতে পারে, আমার কিছুই করার নেই। তবে আপনাদের বিনীত অনুরোধ করব- আপনারা একটু অন্তর দিয়ে চিন্তা করে দেখুন। আমি যে কথাগুলো বলছি তাতে সত্যতা আছে কি-না, আমার কথা অসত্য হলে আপনাদের কলম (সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে) অস্ত্র, কলম দিয়ে আমাকে ঘায়েল করবেন। আমার বিরুদ্ধে লিখবেন। আমার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেবেন। নিশ্চয়ই, অবশ্যই আমি সেগুলো শুনব, মাথা পেতে নেব।

তিনি আরও বলেন, একটু চিন্তা করে দেখেন দেশের এই অবস্থায় আপনারা ডাক্তারদের বিরূপ সমালোচনা করেন, ডাক্তাররা তো ভুলক্রটির ঊর্ধ্বে না, ডাক্তারদের অনেক ভুলক্রুটি আছে, তারা তো মানুষ। আপনাদের বুঝতে হবে এ সীমিত সম্পদের মধ্যে তারা আপনাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই সেবা দেয়ার মধ্যে নানারকম ব্যত্যয় হয়েছে, এটা অস্বীকার করব না, আমরা একশভাগ দিতে পারিনি। আপনারা এটা বিবেচনা করে দেখুন এ সময় যদি আপনারা পাশে না দাঁড়ান, আমাদের সাহস না দেন, আমাদের অভিনন্দিত না করেন তাহলে আমরা কোথায় যাব। আমাদের মন কোথায় থাকবে, আমার ডাক্তাররা কীভাবে কাজ করবে। ডাক্তাররা কী খাচ্ছে কোথায় থাকছে, দিনের পর দিন কীভাবে ডিউটি করছে, একবারও কি দেখেছেন। হাসপাতালে গিয়েছেন? হাসপাতালে রোগীর পাশে দাঁড়িয়েছেন কখনও, কাজেই আমি বিনীত অনুরোধ করব- টেলিভিশনের নিরাপদ বাক্সের ভেতরে না থেকে বেরিয়ে আসুন, আমাদের সাথে আসুন, অধিদফতরে আসুন, আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অফিসে আসি। আমি এবং আমার অধিদফতরের সকল কর্মকর্তা-কর্মাচারী করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যত্র বাধা-নিষেধ থাকলেও এখাানে অবাধে সবার যাতায়াত রয়েছে। যে কেউ যেকোনো সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে আসবেন। আমরা সেটাকে মোকাবিলা করব। কাজেই আপনারা অনুগ্রহ করে আমাদের প্রতি সদয় হউন, আমাদের অভিনন্দিত করুন। দেখুন আমরা কাজ কীভাবে করি। আমাদের যে ভুল তা বড় বড় করে লিখবেন।