তীব্র সেশনজটের শঙ্কা,শিক্ষকদের আন্দোলনে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

0
5

করোনার ধাক্কা সামলে উঠতে এখনো হিমসিম খাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগ। অনেক বিভাগেই আন্দোলন করে একবার পরীক্ষায় বসতে হয় আবার আন্দোলন করে ফলাফল নিতে হয়। এই অবস্থায় সার্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রত্যয়’ বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন।

এরই অংশ হিসেবে সোমবার (১ জুলাই) থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ অচলাবস্থার কারণে তীব্র সেশনজটের শঙ্কা করছেন রাবি শিক্ষার্থীরা। তবে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে তা মেকআপ করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের
শিক্ষকরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতি ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের পাশাপাশি হল প্রাধ্যক্ষের অফিস, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বন্ধ থাকবে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষকরা যেহেতু ক্লাস-পরীক্ষা পুরোপুরি বন্ধ করে আন্দোলন করছে সেহেতু এই আন্দোলন অবশ্যই শিক্ষার্থীদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। শিক্ষকদের আন্দোলন যৌক্তিক হলেও কোনো অগ্রসর চিন্তাশীল রাষ্ট্রে এভাবে শিক্ষা-কার্যক্রম বন্ধ রাখা নিঃসন্দেহে অযৌক্তিক। এতে আমাদের মধ্যে সেশনজটের শঙ্কা যেমন বাড়ছে তেমনি আমরা শিক্ষামূলক কার্যক্রম থেকেও ক্রমে দূরে সরে পড়ছি।

তারা আরও বলেন, করোনার কারণে সব ডিপার্টমেন্টেই সেশনজট বেধে আছে সেগুলো আরও ত্বরান্বিত হতে পারে। এছাড়া অনেক ডিপার্টমেন্টের পরীক্ষা চলমান তাদের পরীক্ষা বন্ধ হয়ে আছে অনেক এতে করে শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে যেতে পারে। গরমের ছুটি ও ঈদের ছুটি একসঙ্গে হওয়ায় আমরা অনেক ছুটি পেয়েছি এখন আবার ক্লাস পরীক্ষা অফ থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ভেতরে আসতে পারছে না।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সেশনজটের মতো কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছি। আর যদি হয়ও তাহলে আমরা তা এক্সট্রা ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে মেকআপ করার চেষ্টা করব। ছুটির দিনে আমরা ক্লাস নিয়ে এটা করতে পারি। করোনা পার করে যেমন আমরা সবকিছু গুছিয়ে নিতে পেরেছি এবারও পারব।

তিনি আরো বলেন, এ আন্দোলন কিন্তু আমরা শিক্ষকদের জন্য করছি না; আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্যই করছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচানোর জন্য করছি। গত তিন মাস ধরে বিভিন্ন প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি করে আসছি; তাতে কোনো কাজ হয়নি। কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে এ আন্দোলনে নেমেছি।