এই ধরনের কোন অন্যায় কাজ আমি করিনি : মোছলেম উদ্দীন আহমদ এমপি

0
45

চট্টগ্রাম: দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দীন আহমদ এমপি বলেছেন, আমি হয়তো সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারিনি, তবে সবার সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করেছি। সবসময় দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কাজ করার চেষ্টা করে গিয়েছি।

কিন্তু দুর্ভাগ্য, একটি ঘটনা আমাকে মর্মাহত করেছে। 

‘ইতিমধ্যে যে লোক এ কাজ করেছে তা কেন করেছে আমার জানা নেই।সে লোকই আবার গতকাল ফেসবুকে আমার প্রশংসাও করেছে। আমার কাছে ক্ষমাও চেয়েছে।তার প্রতি আমার কোনও অভিযোগ নেই বরং আমি তার নিরাপত্তা নিয়েই ভাবছি। তাকে পেছন থেকে হয়তো কেউ ইন্ধন দিচ্ছে।

তবে অন্যায় কাজে আমার কোনও সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবুও আমার কোনও অন্যায় হয়ে থাকলে এবং তা প্রমাণ করতে পারলে আমি যে কোনও ধরনের শাস্তি মাথা পেতে নিতে রাজি আছি। তাই আমি এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ উপস্থাপনা কামনা করবো’। 

বুধবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। 

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে সোমবার (১০ জানুয়ারি) আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামি মো. কামাল উদ্দিন চট্টগ্রাম জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের আইন বিষয়ক সহ সম্পাদক।  

গত ৬ জানুয়ারি বেলা দুইটায় নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন লিখেন, ‘আসন্ন ১৭ নম্বর সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইয়ে দিবে বলে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুসেইন কবির দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপির নাম দিয়ে আমার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকার চেক নিয়েছেন। কিন্তু দুখের বিষয় হচ্ছে, আমাকে মনোনয়ন দেওয়া তো দূরে থাক, কেন্দ্রে আমার নামটি পর্যন্ত পাঠায়নি। এখন আমি আমার চেক ও টাকা ফেরত চাই। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে আমি তৃণমূলের আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হবো এবং ফৌজদারি মামলা করতে বাধ্য হবো’। 

সংবাদ সম্মেলনে মোছলেম উদ্দীন আহমদ বলেন, আমি মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনও অন্যায়ের সাথে আপোষ করিনি। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাইয়ে দিতে আমার নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে যে পোস্ট দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ পোস্ট করলে তার দায় আমি নিব না। আমি মানুষ, রাজনীতি করতে গিয়ে চলার পথে ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। তবে এখন যে অভিযোগ উঠেছে, এ ধরনের কোনও অন্যায় কাজ আমি করিনি। গণমাধ্যমে নিউজ দেখে আমি হতাশ হয়েছি। আমাদের ভুল নেই, সেটা বলবো না। দলীয় কিছু বিষয় আছে, যেগুলো জনগণের সামনে বলা যায় না।  

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা মনোনয়নের বিষয়টা দেখেন। আমাদের কোনও হাত নেই। আমরা শুধুমাত্র তালিকা পাঠাই। তিনজনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ৮ উপজেলায় তৃণমূল পর্যায়ে সভা করেছি। প্রত্যেক প্রার্থীর বক্তব্য নিয়েছি, শপথ করানো হয়েছে। মনোনয়ন না পেলেও দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে, আমাদের কাছে ভিডিও রয়েছে। জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। পটিয়ার চার জনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হলেও তাদের একজনকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। আমাদের মনোনয়ন দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।  

জামায়াত নেতা মুমিনুল হক চৌধুরীর ছেলে রুহুল্লা চৌধুরীর মনোনয়নের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে মোছলেম উদ্দিন বলেন, মুমিনুল হকের ছেলে রুহুল্লাহর নাম আমরা পাঠাইনি। আমরা পাঁচজনের নাম পাঠিয়েছিলাম, কেন্দ্রে অনেকের নাম পাঠানো না হলেও সেখানে যুক্ত করেছে। কেন্দ্র থেকে যারা মনোনয়ন ফরম নিয়ে থাকে, তাদের নামও যুক্ত করা হয়ে থাকে অনেক সময়। জামায়াতের সাথে রুহুল্লার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে দলীয় সভানেত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে সাতকানিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।  

কামালের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়ে মোছলেম উদ্দীন আহমদ বলেন, এই সমস্ত ঘটনা কে করেছে, তার পিছনে কেউ কাজ করছে কি-না সেটা নজর দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাই। এই ঘটনা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের আহ্বান জানাই। আমি ঘটনার সঙ্গে বিন্দুমাত্র জড়িত নই। কামালকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তার সঙ্গে আমার দেখা ও সাক্ষাত হয়নি। তিনি সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না দিয়ে দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন।  

সিআরবিতে হাসপাতালের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সিআরবিতে হাসপাতাল তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা সরকার পক্ষের লোক, সরকার যেটা করে সেটা সমর্থন করা স্বাভাবিক। আবার কারও বিরোধিতা করার অধিকার রয়েছে। আমরা কোন পক্ষে, তার জন্য আমাদের বর্জন করে নিউজ ছাপানো হবে না, সেটা আমাদের ওপর অবিচার। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী, আমি তার পক্ষে থাকবো। আমি সরকারের অংশ, এটাই স্বাভাবিক।  

এক প্রশ্নের জবাবে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, কামাল উদ্দীন আর আমি একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি কখনও বলেননি-আমি মনোনয়ন চাই। যেহেতু হোসেন কবির উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তিনি মামলা করেছেন।  পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে হোসেন কবির ও কামালের মোবাইল পরীক্ষা করলে সেটা বের হয়ে যাবে। কামাল সবসময় সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে থাকে। সে কতটা মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ, আপনারা চিন্তা করবেন। 

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।