নতুন জাতীয় পরিচয় পত্র করার নিয়ম-২০২৪

0
9

নতুন ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনার নাম, জন্ম তারিখ, ক্যাপচা এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করতে হবে।

তারপর ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণ করে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে সাবমিট করতে হবে।

অনলাইনে ভোটার আবেদন সম্পন্ন হলে ফরমটি ডাউনলোড করুন। এখন ডাউনলোড করা আবেদন ফরমটি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে আপনার স্থানীয় নির্বাচন কমিশন অফিসে যোগাযোগ করুন। আবেদনের জটিলতা কমাতে কাগজপত্রগুলো সত্যায়িত করে নিতে পারেন।

আপনার জমা দেওয়া আবেদন ফরম এবং কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আঙুলের ছাপ এবং চোখের রেটিনা স্কিন করে বায়োমেট্রিক ডাটা সংগ্রহ করার জন্য ডাকা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবং বায়োমেট্রিক ডাটা সংগ্রহ করার দুই সপ্তাহের মধ্যে অনলাইন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। এসময়ের মধ্যে আপনাকে মোবাইলে মেসজের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আমরা এখানে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড করার প্রক্রিয়াটি সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হলো। সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি বিস্তারিতভাবে অর্থাৎ ধাপে ধাপে কীভাবে সম্পন্ন করতে হবে- সেটা দেখে নেওয়া যাক।

নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য অনলাইনে আবেদন করার আগে আবেদনের শর্ত এবং নতুন ভোটার হতে কী কী লাগে সেসব সম্পর্কে জানা আবশ্যক।

নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার কার্ড করার ক্ষেত্রে শর্ত
নতুন জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত রয়েছে। আবেদন ফরম পূরণ করতে হলে ভোটার আবেদনের যোগ্য হতে হবে। যেমন-

• অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
• বয়স ১৬ বছর বা তার বেশি হতে হবে।

আগে NID নিবন্ধন না করা
নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য আবেদন করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। সেইসঙ্গে বয়স সর্বনিম্ন ১৬ বছর হতে হবে এবং এর আগে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নিবন্ধন করা যাবে না। এখানে ১৬ বছর নিয়ে কেউ কেউ হয়তো বিভ্রান্ত হতে পারেন!আসলে বাংলাদেশে বয়স ১৬ বছর হলেই জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায় এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের পিডিএফ কপি পাওয়া যায়।

তবে হ্যা, ১৮ বছর হওয়ার আগে কেউ কোনো সিম কার্ড নিবন্ধন করতে পারবেন না। এমনকি নির্বাচনের সময় ভোটও দিতে পারবেন না। কেননা ভোটার তালিকায় আপনার নাম আসবে না। তবে যখনই আপনার বয়স ১৮ পূর্ণ হবে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে এবং আপনি সবকিছুই করতে পারবেন।

নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার নিয়ম
বাংলাদেশের নাগরিকরা দুটি উপায়ে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। তা হলো-

১) অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন আবেদনের মাধ্যমে এবং
২) সরাসরি নির্বাচন অফিসে গিয়ে।

কয়েক বছর আগেও উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করতে হত। এছাড়া সরকারি উদ্যোগে ৫ বছর পর পর এলাকাভিত্তিক যে নতুন ভোটার নিবন্ধন ক্যাম্পেইন চলে সেই ক্যাম্পেইনেও নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়।

তবে এখানে আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে- নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করার পদ্ধতি জানা। যাতে করে কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে নিজেই নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

তথ্যগুলো পূরণ করা হলে, পুনরায় যাচাই করে দেখুন- কোথাও ভুল রয়ে গেল কিনা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

অন্যান্য তথ্য
এবার আপনাকে অন্যান্য তথ্য পূরণ করতে হবে। এখানে অবশ্যই পূরণ করতে হবে এমন ঘরগুলো হলো- শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা এবং ধর্ম। আবেদনকারী কোনো ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধী হলে, তা অসমর্থতার ঘরে বাছাই করে দিতে হবে।

এ ধাপে যে তথ্যগুলো দিতে হবে, তা হলো-
• শিক্ষাগত যোগ্যতা (আবশ্যিক)
• পেশা (আবশ্যিক)
• ধর্ম (আবশ্যিক)
• অসমর্থতা (প্রযোজ্য হলে)
• শনাক্তকরণ চিহ্ন (যদি থাকে)
• টিন নম্বর (যদি থাকে)
• ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে)
• পাসপোর্ট (যদি থাকে)

এভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে এ ধাপটি সম্পন্ন করতে হবে।

বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
এবার আপনার বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য দিতে হবে। এ ধাপটি গুরুত্ব সহকারে পূরণ করতে হবে। প্রথমেই অবস্থানরত দেশ বাছাই করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই আপনি অবস্থানরত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বাছাই করবেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ভোটার ঠিকানা বা স্থায়ী ঠিকানা বাছাইকরণ। আপনার বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা আলাদা হলে, আপনি যেখানকার ভোটার হতে চাচ্ছেন, সেখানকার তথ্যগুলোই ভোটার ঠিকানা হিসেবে টিক চিহ্ন দিয়ে দিন।

এখানে ভোটার ঠিকানা হিসেবে যেখানকার তথ্য দেবেন, সেখানকার ভোটার তালিকাতেই আপনার নাম আসবে। নির্বাচনের সময় এ ঠিকানাতেই আপনি ভোট দিতে পারবেন।

এরপর বর্তমান ঠিকানার স্থানে আপনার বর্তমান ঠিকানা বাছাই করুন। চাইলে বর্তমান ঠিকানার স্থানে স্থায়ী ঠিকানাও দিতে পারেন। বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা একই হতে পারে, এতে কোনো সমস্যা নেই। আর যদি বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা ভিন্ন হয় তাহলে আপনার বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বাছাই করুন। ড্রপডাউন মেনুতেই সব পেয়ে যাবেন, শুধু সিলেক্ট করে দিতে হবে।

আবেদন সাবমিট
এবার সম্পূর্ণ আবেদন ফরমের তথ্যগুলো নিশ্চিত করে ফাইনাল সাবমিট করতে হবে। তবে যদি মনে হয় কোথাও কোনো ভুল করে ফেলেছেন, তাহলে পেছনে বা ব্যাক নামক বাটনে ক্লিক করে আগের ধাপে যেতে পারবেন। পুনরায় সঠিক তথ্য দিয়ে আপনার আবেদনটি চূড়ান্ত সাবমিট করতে হবে।

আবেদন কপি ডাউনলোড
অনলাইনে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার হওয়ার আবেদন সাবমিট হয়ে গেলে আপনার সামনে আবেদন সামারি বা ভোটার আবেদন কপি ডাউনলোডের জন্য একটি বাটন দেখতে পাবেন। ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করুন।

এখন এ আবেদন কপি প্রিন্ট করে এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আপনার স্থানীয় নির্বাচন কমিশন আফিসে বা উপজেলা নির্বাচন আফিসে জমা দিতে হবে।

আপানার আবেদন ফরম জমা দেওয়ার পর, উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিস তা যাচাই-বাছাই করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আপনাকে বায়োমেট্রিক তথ্য (ছবি ও আঙুলের ছাপ) নেওয়ার জন্য ডাকা হবে। এর ১০ থেকে ১৫ দিন পর আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হলেই, আপনি অনলাইন থেকে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রটি ডাউনলোড করে নেবেন।

ব্যস, এভাবেই আপনি পেয়ে গেলেন আপনার নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড বা এনআইডি কার্ড।