সংস্কারে প্রস্তুত কালুরঘাট সেতু: রেল ও ঠিকাদারের রশি টানাটানিতে খুলছে না যান

0
10

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম :: ফিনিশিং টাচ ছাড়া সম্পূর্ণ প্রস্তুত চট্টগ্রামের শতবর্ষী কালুরঘাট রেলওয়ে সেতুর সংস্কার কাজ। কিন্তু শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা বলে আরও এক মাস সময় নিয়ে যানবাহন চলাচলে উন্মুক্ত করতে চায় রেলওয়ে ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।  অথচ তারা তিন মাস বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করে কাজ শুরু করেছিল গত বছরের ১ আগস্ট। তিন মাসের কথা বলে প্রায় ১১ মাসেও শেষ করতে পারেনি কাজ। এদিকে বোয়ালখালী, পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের কয়েক লাখ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার। সর্বশেষ গত শনিবার ফেরির সাথে ধাক্কা লেগে নদীতে পড়ে নিহত হন বোয়ালখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক আশরাফ উদ্দিন কাজল।

জানা যায়, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে ৪৩ কোটি টাকায় সংস্কার করা হচ্ছে কালুরঘাট সেতুটি। সংস্কারের জন্য সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করা হয়। বর্তমানে সেতু সংস্কারের প্রায় কাজ শেষ। শুধু সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধে দুইপ্রান্তে বসানো হবে উচ্চতা প্রতিবন্ধক। এ সব কাজ শেষ হলে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। কালুরঘাট সেতু দিয়ে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া ও রাঙ্গুনিয়ার একটি অংশসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের কয়েক লাখ মানুষ চট্টগ্রাম নগরে আসা-যাওয়া করেন।

সেতু দিয়ে অটোরিকশা, টেম্পো, ছোট পিকআপ, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস চলাচল করত। এখন ফেরি দিয়ে পারাপার হয় মানুষ। প্রতিদিন প্রায় লক্ষ মানুষ নদী পার হন। সেতু দিয়ে ট্রেনও চলাচল করে।
বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা মনে করেন, এবার বিদ্যমান পাটাতনের ওপর বিশেষ প্রযুক্তির কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে পানি নিস্কাশনের পথ রাখা হয়েছে।

এরপর ওই কংক্রিট ঢালাইয়ের ওপর পিচ দিয়ে সড়কপথ নির্মাণ করা হয়। এতে সড়ক ও রেলপথ দুটিই আগের চেয়ে শক্ত অবয়ব পায়। তাই সংস্কারের পর বর্ষা মৌসুম কিংবা কুয়াশাজনিত পানি না জমে কংক্রিট ঢালাইয়ের অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ সিস্টেম দিয়ে নদীতে পড়লে রেল ট্র্যাক, ক্লিপ ও সেতুর ইস্পাতের পাটাতন ক্ষয় হবে না। বিশেষ প্রযুক্তি ও বুয়েটের পরামর্শে নতুন করে বিদ্যমান পাটাতনের ওপর বিশেষ প্রযুক্তির কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে সড়ক ও রেলপথ উভয়ই আগের চেয়ে শক্ত থাকবে। মেয়াদোত্তীর্ণ সেতুটি দীর্ঘ সময় ব্যবহারযোগ্য রাখা যাবে।

কালুরঘাট সেতুর ফোকাল পার্সন প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, সেতুর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। কার্পেটিংয়ের কাজও শেষ। এখন চলছে শেষ সময়ের কাজ। কাজ শেষ হলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে। এরপরই চূড়ান্তরূপে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এটি চালু হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।

সূত্র জানিয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া টাকার জন্য শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ। রেলওয়ে তাদের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছেন।