বাতির নিচে অন্ধকার! হাটহাজারী বাসস্টেশনের কবির মিয়াজী এলাকা

0
50


নিজস্ব প্রতিবেদক: আকাশে কড়া সূর্য। তারপড়েও পানিতে সড়ক টইটুম্বুর। চারিদিকের নোংরা পানি জমে থাকে সড়কে। আর বৃষ্টিতে কোমর সমান পানি থাকে এখানে। নোংরা পানি ডিঙ্গিয়ে স্থানীয় জনসাধারনকে যাতায়াত করতে হয় প্রতিনিয়ত। বছরের পর বছর জ্বলেনা কোন সড়ক বাতি। ড্রেনে পচা দূর্ঘন্ধ যুক্ত ময়লা পানিতে ডিম পেড়েছে মশা মাছি। সড়কের গা ঘেষে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গণকবর যেন ময়লার স্তুপ। এটি কোন অজো পাড়া গায়ের গল্প না। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা ও পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অদুদিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কবির আহমেদ মিয়াজী সড়কের চিত্র এটি। স্থায়ীভাবে ড্রেন সম্প্রসারন সহ মুক্তিযুদ্ধের গনকবরটি যথাযথভাবে সংরক্ষনের দাবি স্থানীয়দের।
বুধবার বিকেল এবং রাতে সড়েজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রৌদ্রজ্ঝোল সূর্য থাকলেও হাটহাজারীর প্রানকেন্দ্র জামেয়া অদুদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার গা ঘেষে কবির আহমেদ মিয়াজী সড়কে নোংরা পানি জমে আছে। নোংরা-দূর্ঘন্ধ যুক্ত পানি ডিঙ্গিয়ে স্থানীয়দের নামাজের জন্য মসজিদে যেতে দেখা যায়। সড়কের পাশের ড্রেনে নোংরা পানি জমে ডিম ছেড়েছে মশা-মাছি। পানি চলাচলের কোন পথ না থাকায় বলতে গেলে ড্রেন অনেকটাই বন্ধ। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকিতে এ এলাকার মানুষ।
এ সড়কে চলাচলকারী স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে হাটু পরিমান পানি উঠে যায়। ড্রেন বন্ধ থাকায় বৃষ্টি হওয়া ছাড়াও এ সড়কে ময়লা দূর্ঘন্ধ যুক্ত পানি জমে থাকে। পানি ডিঙ্গিয়ে তাদের যেতে হয় স্কুল-কলেজ, অফিস, মসজিদ সহ হাটে বাজারে।
এ বিষয়ে হাটহাজারী পৌরসভার প্রকৌশলী জানান, শীঘ্রই এর সুরাহা করা হবে।
এ সড়কের পাশ ঘেষে রয়েছে হাটহাজারী জামেয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। প্রতিদিন শতশত ছাত্র ছাত্রী এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়াও নালার দূর্ঘন্ধের কারণে স্বাস্থ্য ঝুকিতে এ শিক্ষা প্রতিষ্টানের ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষক-কর্মচারীরা। স্থানীয় কয়েকজন জানান, কার্পেটিং করা সড়কটি পানি জমে থাকার ফলে অযতœ অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে। তারা দ্রুত স্থায়ী ভাবে ড্রেনটি পার্শ্ববর্তী খাল পর্যন্ত সম্প্রসারানের দাবি জানান। এ এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক এম নাজমুল ইসলাম বলেন, “আমার একটি ম্যাসেজ পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই হাটাহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসুস্থ্য হওয়া সত্তেও কল বেক করে সন্ধ্যায় পৌরসভার টিম প্রেরন করেন এবং খুব দ্রুত এর সমাধানের আশ্বাস দেন। সরকারি উর্ধতন কর্মকর্তাদের এ ধরনের আচরনের ফলে জনগন আরো সহজে হয়রানি মুক্ত ভাবে সেবা পাবে’’।
এ সড়কে সরেজমিনে বিভিন্ন সময়ে এসে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যাতায়াত করেন এখানকার জনসাধারন। অনেকদিন ধরেই জ্বলেনা কোন সড়ক বাতি। ফলে ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকা এ সড়ক বাসষ্টেশনের খুব কাছে হওয়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন এ সড়কটিকেই বেছে নিয়েছে মাদক কেনাবেচার সাথে সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে সড়কের গা ঘেষেই রয়েছে চরম অবহেলিত ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় নিরিহ বাঙ্গালীদের কবর। এর উপরে প্রতিদিন স্থানীয় শেখ আহমদ এর বিক্রি করা আবাসিক এলাকার মানুষজন যততত্রভাবে ময়লা আবর্জনার স্তুপ ফেলে যায়। ফলে দূর্গন্ধের পাশাপাশি চরম অবমাননা হচ্ছে এ মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এ কবরের। সিনিয়র ব্রডকাষ্ট জার্নালিষ্ট এম নাজমুল ইসলাম জানান, ‘‘১৯৭১ এর সময় বেচে যাওয়া মুরব্বিদের কাছে শুনেছি ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী বিভিন্ন এলাকার নিরীহ মানুষদের ধরে এনে অদুদিয়া মাদ্রাসার টর্সার সেলে নির্যাতনের পর মাদ্রাসার পিছনে গর্ত খুরে গনকবর দিত। পরিতাপের বিষয় এখন সে কবরের উপর মানুষজন ময়লা ফেলছে, প্র¯্রাব করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের এ গনকবর এর সম্মান রক্ষার্তে

………. কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি’’।
এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক দ্রুত এ সড়কের ড্রেনেজ সিস্টেমের উন্নয়ন সহ গনকবরের ব্যাপারে উদ্যেগ নেওয়ার কথা জানান’।