বিপর্যয়ের মুখে টানা ৪ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যুক্তরাজ্যে 

0
19
আজ লোডশেডিং নেই ডিপিডিসি এলাকায়

আসছে জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সে কথা মাথায় রেখে ব্রিটিশ সরকার আগামী শীতে ইন্ডাস্ট্রি এমনকি বাসাবাড়িতেও ব্ল্যাকআউট তথা লোডশেডিংয়ের পরিকল্পনা করছে।

শীত এলেই যুক্তরাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। আর তা উৎপাদনে গ্যাসের জোগানও বাড়াতে হয়। কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটের কারণে রাশিয়ার গ্যাস মিলছে না।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে সামনের শীত তথা জানুয়ারিতে শিল্প-কারখানা ও সাধারণ পরিবারগুলোর জন্যও সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের বরাতে খবরে বলা হয়, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির’ বিষয় মাথায় রেখে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তা করার পরও সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ছয় ভাগের এক ভাগ ঘাটতি থেকেই যাবে।

শীতে যদি গড় তাপমাত্রা হ্রাস পায় তবে নরওয়ে ও ফ্রান্স থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। তেমন পরিস্থিতি হলে টানা ৪ দিন বিদ্যুৎ নাও থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল গ্রিড বিদ্যুৎ বিপর্যয় এড়াতে বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে বলে ইউরো উইকলি নিউজও এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে যুক্তরাজ্যে বার্ষিক বিদ্যুৎ বিলও শীত শুরু হওয়ার আগেই অনেকে বেড়ে গেছে। অনেক পরিবারই এরইমধ্যে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে।

পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম দ্রুত বেড়ে যাবে বলেও সতর্ক করেছে ন্যাশনাল গ্রিড। সঙ্গে ফ্রান্স, নরওয়ে, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসকে সংযোগকারী বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে বিদ্যুৎপ্রবাহ কম হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

সবমিলে একদিকে গ্যাস সংকট অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতির চাপে অর্থনৈতিক মন্দার দিকে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এমন পরিস্থিতিতে বরিসের উত্তরসূরি ট্রাস বা সুনাক যেই হোক না কেন তার ওপর এই বর্তমান গ্যাসসংকট একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।