বোয়ালখালীতে করোনার গণটিকাদান কর্মসূচি প্রথমদিনে ৪২শত করোনা টিকা প্রদান

0
25

বোয়ালখালী প্রতিনিধিঃ বোয়ালখালীতে করোনার গণটিকাদান কর্মসূচি আজ শনিবার উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে টিকা নিতে দেখা গেছে ।শনিবার (৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের হল রুমে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম -৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোছলেম উদ্দিন আহমদ। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত রাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ করোনার টিকা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এটি একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। এটি আমাদের গৌরবের বিষয়। আমি নিজে করোনা রোগী ছিলাম। আল্লাহর রহমতে ভালো হয়েছি। তিনি সাধারণ মানুষের টিকা নেওয়ার উৎসাহ দেখে স্বস্তি প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহার, বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র হাজি আবুল কালাম আবু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মোঃ জিল্লুর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল করিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত সাহাদাত হোসেন, সহসভাপতি মোঃ সফিকুল আলম, দক্ষিণ জেলা ছাত্র লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ তারেকুল ইসলাম, বাংলা টিভি চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ লোকমান চৌধুরী, বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ ইয়াছিন চৌধুরী, এস এম নাঈম উদ্দিন, শাহ আলম বাবলু, দক্ষিণ জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন, যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন, বায়েজিদ রাজু।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৬০০টি করে ২১ বুথে ৪২০০টি টিকা প্রদান করা হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নের ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের জনসাধারণ এ টিকা পেয়েছেন। অন্য ওয়ার্ডের জনসাধারণকে পরবর্তী সময়ে টিকা দিবেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম কধুরখীল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে টিকা নেওয়ার পর আবদুল জলিল নামে এক ব্যক্তি বলেন, টিকা দিতে পেরে আমি আনন্দিত। এত তাড়াতাড়ি টিকা পেয়ে খুশি আমরা। টিকা নেওয়ার পর আমার কোনও সমস্যা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ আমাদের এত দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য।

টিকা নিতে আসা রহিমা বেগম নামের এক মহিলা বলেন, টিকা নেওয়ার আগে একটি ভীতি কাজ করেছিল। কিন্তু টিকা নেওয়ার সময় তা একেবারেই টের পাইনি। আজকে প্রথম টিকা নিয়েছি। আমি সবাইকে বলবো অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে দ্রুত টিকার আওতায় আসার জন্য। এতে করে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত কোনও প্রকার সমস্যা ছাড়াই আমরা টিকা দিয়ে যাচ্ছি। মানুষ আসছে টিকা নেওয়ার জন্যে। সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ টিকা নিচ্ছে। আজকে সকাল থেকে আমাদের টিকাদান কার্যক্রম চলমান আছে। যতক্ষণ লোকজন আসবে আমরা ততক্ষণ টিকাদান করবো। অনেক মানুষ নিজ থেকে আগ্রহী হয়ে টিকা নিতে আসছেন। আশাকরি আরও মানুষ আসবেন। আমরা তাদেরকে নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রদান করবো। টিকা নেওয়ার ব্যাপারে মানুষের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা বেড়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিককে টিকার আওতায় আসবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতিদিন হাসপাতালের ঠিকানায় যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের মোবাইলে মেসেজ দেখে তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন সকাল ৯ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত করোনা টিকা দেওয়া হবে।