ভারীবর্ষনে বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

0
8

সিলেট নগরীতে আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯৪ মিলিমিটার অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে৷ এছাড়াও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার অন্যান্য অংশ এবং ভারতের মেঘালয়ে৷ভারী বর্ষণের প্রভাবে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের নদীর পানি দ্রত বাড়ছে, প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল৷ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে সিলেট নগরী ও সুনামগঞ্জ শহরেও৷

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুসারে, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি সিলেটের কানাইঘাটে বিপৎসীমার ১১৮ সেন্টিমিটার, সুনামগঞ্জের ছাতকে ৯৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জ শহরে ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল৷ একই সময় সিলেট নগরীতে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল৷

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান সাক্ষরিত ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে সিলেট বিভাগসহ দেশের সবকটি বিভাগের ‌ওপর দিয়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে৷

এদিকে, উজানের পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা-ধরলা-দুধকুমারসহ ২৬টি নদ-নদীর পানি৷ প্লাবিত হয়েছে চর ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল৷ পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামি ২৪ ঘণ্টায় নদীপাড়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড৷ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হলেও রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে তা ছিল ৭ সেন্টিমিটার ওপরে৷

অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির আলুটিলার সাপাহার এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে৷ ফলে ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে খাগড়াছড়ির যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, এতে আটকা পড়েছেন পর্যটকরা৷

জানা গেছে, ভোরে সাপাহারা এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে৷ সকাল এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি৷

স্থানীয়রা জানান, টানা বর্ষণে মাইনী নদীর পানি বেড়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে৷ নিম্নাঞ্চল দীঘিনালা-লংগদু সড়কের হেডকোয়ার্টার এলাকায় রাস্তা ডুবে যাওয়ার রাঙ্গামাটির লংগদুর সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে৷ ডুবে গেছে মেরুং বাজারও৷ টানা বর্ষণে দীঘিনালার মেরুং ও কবাখালি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে৷

এদিকে, খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের বাঘাইহাটে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় সাজেকের সঙ্গেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে৷ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী ও পর্যটকেরা৷