মানুষ কখনো দেশনেত্রীকে বন্দী অবস্থায় চলে যেতে দেবে না: মির্জা ফখরুল

0
9

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,  ঢাকা ::সরকারের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘মানুষ কখনো দেশনেত্রীকে এভাবে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দী অবস্থায় চলে যেতে দেবে না, এটা মনে রাখতে হবে।’

খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে যে কোনো পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে সরকারকে, এই হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ কখনো দেশনেত্রীকে এভাবে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দী অবস্থায় চলে যেতে দেবে না, এটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।’

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির সমাবেশে মির্জা ফখরুল সরকারের উদ্দেশে এই হুঁশিয়ারি জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ এই দেশ আওয়ামী লীগের হাতে, এই বর্বরদের হাতে, এই লুটেরাদের হাতে একটুও নিরাপদ নয়। আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। এই সরকার থাকা মানে হচ্ছে দেশ ধবংস হওয়া, গণতন্ত্র ধবংস হওয়া, দেশের মানুষ ধ্বংস হওয়া।’

বর্তমান সরকারকে দখলদার সরকার মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে, অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে। ভয়ংকরভাবে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। ব্যাংক লুটপাট করে তারা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, চিন্তাও করতে পারি না। যখন দেখি তিনি গণতন্ত্র ধ্বংসে জড়িত। সাবেক পুলিশপ্রধান হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। বড় বড় আরও যাঁরা রাঘববোয়াল, ব্যাংক চুরির হোতা, তাঁদের এখন পর্যন্ত ধরা হচ্ছে না। অথচ দেশনেত্রীকে সাত বছর যাবত বন্দী রাখা হয়েছে।’

ভারতের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। শুধু বিএনপি নয়, দেশের আইনবিশেষজ্ঞ, পানিবিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, এটা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি। আমরা পানি চাই। আমরা আমাদের অধিকার চাই। অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা চাই, সীমান্তহত্যা বন্ধ চাই। তা না করে এই সরকার সব কিছু বিলিয়ে দিয়েছে।’

এ চুক্তিতে বাংলাদেশে মানুষ কী পেয়েছে? এমন প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ পেয়েছে তার অধিকারকে হরণ করা, তার সম্পদগুলোকে লুণ্ঠন করার আরও পথ তৈরি করা। সাহস করে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে আপস নয়
সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, দেশনেত্রীকে যেকোনো মূল্যে মুক্তি দিতে হবে। তাঁর মুক্তির স্বার্থে কোনো আপস কারও সঙ্গে হবে না।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যেই সরকারের নিযুক্ত এত বড় বড় কর্মকর্তা দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়, তাহলে সেই সরকার কী দুর্নীতিবাজ নয়?’ স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যখন অন্যায় আইনে পরিণত হয়, তখন প্রতিরোধ কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।’

প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু, মো. শাহজাহান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

২১ জুন থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রায় আট মাস পর ঢাকায় বড় সমাবেশ করল বিএনপি। কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্টুরেন্ট মোড় থেকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের জমায়েত ছিল।