সব আসনে যাত্রী চায় বাস মালিকরা

0
16

গণপরিবহণে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী বহনের সরকারি ঘোষণা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে না। শতভাগ সিটে যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর দাবি জানিয়েছেন পরিবহণ মালিকরা।

এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভাড়াতেই তারা গাড়ি চালাবে। কিন্তু অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে তাদের গাড়ি চালাতে বাধ্য করলে যাত্রীদের কাছ থেকে ৬০ ভাগ বেশি ভাড়া আদায় করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা অতিরিক্ত এ ভাড়া আদায় করবে। বুধবার বিআরটিএ ভবনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিবহণ মালিক নেতাদের বৈঠকে এমন আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে মালিকরা যত আসন তত যাত্রী পরিবহণের দাবি করে শনিবার থেকে বিদ্যমান ভাড়ায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গাড়ি চালানোর ঘোষণা দেন। তবে তাদের দাবি পূরণ না হলে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রে তারা আগের গেজেট অনুযায়ী শতকতা ৬০ ভাগ বর্ধিত ভাড়া আদায় করবেন।

বৈঠক শেষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেছেন, আগামী ১৫ জানুয়ারি শনিবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন খালি রেখে যাত্রী নিয়ে গণপরিবহণ চলবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি জোরদার করতে সভায় সব ধরনের আলোচনা হয়েছে।

গণপরিবহণের চালক-হেলপারসহ অন্যান্য পরিবহণ কর্মী, যাত্রী সবাইকে শতভাগ মাস্ক পরতে হবে এবং স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা আগের মতো থাকবে।

কেবিনেটের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে যেহেতু ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না, সেহেতু আমাদের বিদ্যমান ভাড়ায় গণপরিবহণ চলবে। বৈঠকে পরিবহণ মালিকরা বলেন, ৫০ ভাগ সিট খালি রেখে ভাড়া বৃদ্ধি করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে। তাই যত সিট তত যাত্রীর বিষয়টি বিবেচনা করে নির্দেশনা চান তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতি ও শুক্রবার বর্তমান নিয়মেই গণপরিবহণ চলবে। শনিবার থেকে দেখেশুনে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী বাস চালাতে চান তারা । তবে একই সঙ্গে সেদিন অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

বর্তমানে যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, মার্কেট, দোকানপাট সব খোলা তাই অর্ধেক আসনে যাত্রী নিয়ে বাস তারা চালাতে চান না। বিদ্যমান ভাড়ায় যত সিট, তত যাত্রী নিয়েই গাড়ি চালাতে চান। তাদের এই দাবি লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত দেখে বাড়তি ভাড়ার ব্যাপারে তারা পদক্ষেপ নেবেন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। এতে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন করে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিধিনিষেধ কার্যকরের তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। আর সব ধরনের যানবাহনের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে করোনার টিকার সনদ থাকতে হবে।

সরকারি এ সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি যুগান্তরকে বলেন, যেখানে বাণিজ্য মেলায় হাজার হাজার লোকের সমাগম নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ নেই।

সেখানে গণপরিবহণে আসনের অর্ধেক যাত্রী বহনের নির্দেশনা দেওয়াটা হাস্যকর। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়। এ নিয়ে নৈরাজ্য দেখা দিতে পারে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর কঠিন হবে। কারণ এমনিতেই যাত্রীর তুলনায় গণপরিবহণের সংকট আছে। তাই যত সিট তত যাত্রী নেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর করলে যাত্রী ভোগান্তি আরও বাড়বে। বাস মালিকরাও এবার কৌশলী ভূমিকা রাখছেন।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সব আসনে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে চাই। মাস্ক, স্যানিটাইজেশন করা সম্ভব হবে।

কিন্তু ভ্যাক্সিনেশন করতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে টার্মিনালে শ্রমিকদের টিকাদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লাইসেন্স নিয়ে গেলে যেন তারা টিকা পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ভাড়া বৃদ্ধি করে বারবার জনগণের রোষানলে পড়তে চাই না।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে লকডাউনের প্রথম দফায় ৬৮ দিন বাসসহ সব ধরনের গণপরিবহণ বন্ধ ছিল। সে বছরের ১ জুন থেকে আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল শুরু হয়। মালিকদের প্রস্তাবে সেবার ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। গত বছর দুই দফার লকডাউনের পরও ভাড়া বাড়িয়ে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলেছিল বাস।