সিলেটের হাওরের বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি

0
8

সিলেট শহরের পানি কমলেও উপজেলা পর্যায়ে এখনো বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। কুশিয়ারার পানি প্রবাহ বেড়েছে। সুরমাও বিপৎসীমার ওপরে। হাওরগুলোও যেন আর পানির ভার নিতে পারছে না। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদ–নদীর বাঁধ ভেঙে ওই সব এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এ অবস্থায় পানিবন্দী মানুষের মধ্যে অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। দীর্ঘস্থায়ী এই বন্যা আক্রান্ত মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। অনেকে মনে করছেন, পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় বন্যা প্রলম্বিত হয়েছে।

পা‌নি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিলেট কার্যালয়ের তথ‌্য অনুযায়ী, সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কু‌শিয়ারার চার‌টি পয়েন্টে পা‌নি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবা‌হিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে রোববার (জুলাই) সকাল ছয়টায় বিপৎসীমার ৫৩ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবা‌হিত হয়। কু‌শিয়ার‌া নদীর অমলশীদ পয়েন্টে ৮০ সে‌ন্টি‌মিটার, শেওলা পয়েন্টে ১৩ সে‌ন্টি‌মিটার এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পা‌নি বিপৎসীমারা ৯৭ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দিয়ে প্রবা‌হিত হচ্ছে।

মাসব্যাপী বন্যার পানিতে কেউ গৃহহারা, আবার কেউ নিজ ঘরেই পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। কৃষির বেহাল অবস্থা। গো-খাদ্যের সংকটে গবাদিপশু নিয়ে তারা পড়েছেন মহাবিপাকে। অনিশ্চয়তা ও চরম হতাশা বিরাজ করছে। পানিবন্দী অবস্থায় কাজ-কর্মহীন স্তব্ধ জীবনযাপন করছেন তারা।

এদিকে, গত চার দিন ধরে সিলেটের প্রধান দুই নদীর পানি ৬টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও শনিবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে দুটি পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। নদ-নদীর পানি নামলেও হাওর-বাওর ও বাড়ি-ঘরে উঠা পানি নামছে না। আর কোনো কোনো স্থানে ধীরগতিতে পানি নামায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি বোঝা যাচ্ছে না।