সুরের লোকেরা অসুরের ভয়ে তঠস্থ: আসিফ

0
29

ফেসবুক টাইমলাইন থেকে :: বেয়াদবীর মওসুম চালু রয়েছে আগে থেকেই। মুখ বুঁজে থাকা বেনিফিশিয়ারীরা নিজ স্বার্থ তথা অর্জিত সম্মান রক্ষার্থে ব্যস্ত সদাই। গতবছর করোনায় দেখলাম গীতিকার সুরকার শিল্পীদের ব্যাপক সাংগঠনিক কুচকাওয়াজ। পুরনো সৃষ্টির নতুন হজমী শক্তির সন্ধানে ব্যস্ত সঙ্গীতের রথী মহারথীরা। নতুন সৃষ্টি শিকেয় তুলে পুরনো সৃষ্টির বনরুটি ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ত তথাকথিত সম্মানীয় সৃষ্টিশীলদের দল। এবছর আর তাদের কোন দৌড়ঝাঁপ দেখা যাচ্ছেনা। এনাদের এসোসিয়েশনগুলোর চা কফি নির্ভর আন্দোলন ফ্যাসিবাদীদের চামচামীর লাইনে আছে। গতবছর কোন এক মহিলা শিল্পী তার সাংবাদিক গীতিকার জামাইসহ এজেন্ডাবিহীন আন্দোলনে নেমেছিলো। তখনই বুঝেছি তাৎক্ষনিকভাবে চামচা জুটে যাওয়া ইন্ডাষ্ট্রীটাই হচ্ছে বেসিক মিউজিক এরিনা।

একটা বুনো শুয়োর আষ্ফালন করেই যাচ্ছে। স্বাধীন দেশের লিজেন্ডরা ভয়ে আছে কখন তাদের নাম মুখে নিয়ে এলোমেলো কথা বলে ঐ শুয়োরটা, অথচ লিজেন্ডদের ক্ষমতা নেই তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার। কথা আছে অনেক, পরে কোন একদিন লাইভে এসে অবশ্যই বলবো। আমি তার চৌদ্দগোষ্ঠীর কাউকে চিনিনা। আমার মূল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেক কোন না কোন ভাবে তার কথা ভেবেছে। এই গল্পের সাথে আমি কোনভাবেই সংশ্লিষ্ট না। পরবর্তীতে ভাল কন্ঠ নার্সিং করতে গিয়ে তাকে হালকা প্রশ্রয় দেয়া, নিজে কখনোই ফোন করে দাওয়াত দেইনি। এরকম বহু শুয়োর ঘোৎ ঘোৎ সুরে আমার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে। একজন মোটামুটি সিনিয়র শিল্পী হিসেবে আমার দায়িত্ব অটো চলে আসে। সঙ্গীতের মুরুব্বীরা গোপনে গোপনে আলোচনা করতে ভালবাসে, কোন প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা উনারা আজো অর্জন করতে পারেননি। তারা মিডিয়া আর জাতির চোখে পূতপবিত্র থাকতে চায়। আমি সঙ্গীতের বাইরের লোক হয়েও তাদের সাথে চলার চেষ্টা করেছি, তাদের গিরগিটি রুপ দেখে প্রতিদিনই মুগ্ধ আর বিব্রত হই। সবাই যার যার ধান্দায় ব্যস্ত, ফাঁকে বিপ্লবী বানিয়ে দিয়েছে আমাকে। মামলা খাই আমি যাদের জন্য তারা নিজেরা নিজেরা দাওয়াত খাওয়াখাওয়িতে ব্যস্ত।

আমার সরলতা কখনোই দূর্বলতা নয়। গানের জগতে আমি সরল থেকেছি সবসময়, অনেক সিনিয়রদের স্নেহ সান্নিধ্য পেয়েছি। ফাঁকে ফাঁকে অজাত কুজাতও পয়দা হয়েছে। আমি আকষ্মিক অহি পাওয়া সবজান্তা কোন মানুষ নই। কারো চেহারা দেখে কিংবা সাময়িক চলাফেরা করে সব বোঝার ক্ষমতা আমার হয়নি, হবেও না। তবে বিচার বিশ্লেষন করে শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা রাখি আলহামদুলিল্লাহ। একটা পলায়নপর বর্ণচোরা স্বার্থপর গোষ্ঠী কখনোই আইকনিক কারেক্টার হতে পারেনা, আমি এগুলা পাত্তাই দেই না। সিস্টেমে তৈরী বুনো শুয়োরটা গায়ক শিল্পী সুরকার গীতিকার কাউকেই ছেড়ে কথা বলেনি। অথচ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার মত যোগ্যতাই দেখাতে পারেনি এদেশের সম্মানিত ক্রিয়েটর গ্রুপ কিংবা তাহাদের সংশ্লিষ্ট কেউ। কিছু নেইম ফেইমধারী সিনিয়ররা এদেশে শুধুমাত্র পত্রিকা টিভির লেকচারার হিসেবেই রয়ে গেলেন। সুরের লোকেরা অসুরের ভয়ে তঠস্থ হয়ে নিজেরাই একেকটা বাকহীন বিচার বুদ্ধিহীন দানবে পরিনত হয়েছেন। আমি এখনো শুধুই একজন পর্যবেক্ষক, এই স্বার্থপরতার মূল্য এখন সবাইকেই দিতে হচ্ছে। সামনে আসছে আরো কঠিন দিন। আগে দাঙ্গাবাজী ভাল লাগতো, এখন বয়স হয়েছে। আপাতত আইন পড়ছি, দেখছি কিভাবে এখনো ১৮৬০ আর ১৯২৩ সালের আইন হঠাৎ করে এই সময়ে ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। এদেশের তথাকথিত গীতিকার সুরকার শিল্পী সমিতির অতি সম্মানিতদের ( মানি বা না মানি) নিজেদের গোত্রের প্রতি নপুংসক অবস্থান উপভোগ করছি। আমাকে যারা ভালবাসেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

ভালবাসা অবিরাম…

লেখক : কন্ঠশিল্পী। শিল্পীর নিজস্ব মতামত ফেসবুকে পোস্ট করা।