স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে স্বামীরও মৃত্যু, অনাথ হয়ে গেল ফুটফুটে নবজাতক

0
24

সন্তান জন্মদানের এক সপ্তাহের মাথায় নাদিয়া আনার কলি (২০) অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে ওষুধ আনতে বেরিয়েছিলেন স্বামী মোস্তফা আকন। কিন্তু ফার্মেসিতে পৌঁছার আগেই মুঠোফোনে স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ আসে। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মোস্তফাও।

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঘটেছে এই ঘটনা। একসঙ্গে মা-বাবার মৃত্যুতে অনাথ হয়ে পড়েছে আট দিন বয়সী নবজাতকটি। এ ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুকে বুকে নিয়ে শুধুই মাতম করছেন মোস্তফা ও কলির পরিবারের সদস্যরা।

মোস্তফা আকনের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম বাঁশবুনিয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রীর অকালমৃত্যুর খবরে মোস্তফার বাড়িতে আশপাশের এলাকার লোকজন ছুটে আসছেন। সকালেই দুজনের মরদেহ মোস্তফাদের বাড়ি দক্ষিণ-পশ্চিম বাঁশবুনিয়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়। দুই পরিবারের লোকজনের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার পরিবেশ। উপস্থিত লোকজনের চোখও ভিজে যাচ্ছিল। আট দিনের নবজাতককে বুকে নিয়ে অঝোরে কাঁদছেন কলির মা ছালমা বেগম ও মোস্তফার মা সাজেদা বেগম।

মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান মোস্তফা লেখাপড়া শেষ করে করে পটুয়াখালী শহরের ফজিলাতুন্নেছা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে খণ্ডকালীন ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করে আসছিলেন। প্রায় ছয় বছর আগে পারিবারিকভাবে শহরের টাউন কালিকাপুর এলাকার প্রয়াত মকবুল হোসেনের মেয়ে কলির সঙ্গে বিয়ে হয়। নুরুল হক আকনের চার ছেলের মধ্য মোস্তফা ছিলেন তৃতীয়।