স্বামীর সহযোগিতায় ভারতে পাচার, নির্যাতনের কথা জানালেন তরুণী

0
17

তিন বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন তিনি। এরপর স্বামীর সঙ্গে শনির আখড়ায় থাকতে শুরু করেন। তবে সংসারে অর্থকষ্ট থাকায় স্বামী তাকে বিদেশে ভালো বেতনে চাকরির কথা জানান। এরপর তরুণী রাজি হলে স্বামী তাকে তুলে দেন পাচারকারীর হাতে। এরপর সাতক্ষীরা, কলকাতা হয়ে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে চলে অমানবিক নির্যাতন।তিন মাস বন্দিদশায় নির্যাতন সহ্য করে মাসখানেক আগে পালিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাচারকারী চক্রসহ তার স্বামীর বিচার দাবি করেন। তার মতো এমন অনেক নারীই এখন নির্যাতনের বিষয় তুলে ধরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

গত মাসের শেষ দিকে ভারতে বাংলাদেশি এক তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপরই নারী পাচার চক্রের সন্ধানে নামে পুলিশ। এর মধ্যে নারী পাচারে যুক্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীকে কিভাবে পাচার করা হয়েছে তার একটি অডিও পাওয়া গেছে। যেখানে তিনি বলেন, তিন বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করার পর স্বামীর সঙ্গে শনির আখড়ায় থাকতে শুরু করেন। কিন্তু সংসারে অভাব থাকায় স্বামী তাকে গার্মেন্টেসে চাকরি করতে বলেন। কিন্তু তিনি পোশাকশ্রমিকের কাজ করতে রাজি হননি। পরে স্বামী তাকে বিদেশে যাওয়ার কথা বলেন। যেখানে দু-তিন মাস কাজ করলে আয় ভাল হবে। এরপর তারা ওই টাকা দিয়ে ব্যবসা করবেন।প্রথমে এমন প্রস্তাবে রাজি না হলেও পরে রাজি হন। এরপর স্বামী তাকে এক মেয়ের হাতে তুলে দেন। সেই মেয়ে তাকে সাতক্ষীরা দিয়ে সীমান্ত পার করে তারা কলকাতায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি ঘরে রাখা হয়। এরপর তাকে ভারতের পরিচয়পত্র বানিয়ে বিমানে করে চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ঘরে তাকে আটকে রাখা হয়। এরপর চলতে থাকে শারীরিক অত্যাচার। তিনি কান্নাকাটি করলে মারধর করে বলা হয়, তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি পালানোর সুযোগ খুঁজতে থাকেন। ঈদুল ফিতরের আগে পালিয়ে দেশে চলে আসেন তিনি।পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. হাফিজ আল ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, ভারতে পাচার হওয়া নারীদের সে দেশের ‘আধার কার্ড’ বা পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়া হয়। আমরা বেঙ্গালুরু পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছি যাতে ‘আধার কার্ড’ তৈরিতে জড়ি