৮০০ মোবাইল চুরি করেছেন সাবেক সচিবের মেয়ে! 

0
11

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত ক্লাব ছাড়াও হোটেলে মুঠোফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে আসছিলেন জুবাইদা সুলতানা (৪৪)। ভুয়া পরিচয়ে অভিজাত এলাকার হোটেল, ক্লাব, সেমিনারসহ নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এমন অপরাধমূলক কাজ করে আসছিলেন তিনি। তবে শেষরক্ষা হয়নি, গতকাল শুক্রবার (১৫ মার্চ) ধরা পড়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে।

শনিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি জানান, গ্রেপ্তার জুবাইদার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব। আর তার বোন গ্রামীণফোনের একজন বড় কর্মকর্তা। অপরাধমূলক এমন কর্মকাণ্ডের জন্য পরিবার থেকে তাকে বিতাড়িত করা হয়েছে।

ডিবি প্রধান জানান, গত ৩ মার্চ ঢাকা ক্লাবে গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজীবিষয়ক একটি সেমিনারে অংশ নেয় জুবাইদা। সেখান থেকে গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজী বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারহানা হকের মোবাইল, ব্যাগ ও গহনা চুরি করেন। পরে ব্যাগসহ জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন। তবে ডা. ফারহানা হকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি নিজের মোবাইলে হস্তান্তর করেন জুবাইদা। এরপর থেকে নিজে চিকিৎসক সেজে বিভিন্ন রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিলেন।

ওই ঘটনায় গত ১২ মার্চ রাজধানীর রমনা মডেল থানায় একটি মামলা হয়। পরে সেই মামলার ছায়াতদন্তে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তের একপর্যায়ে শুক্রবার জুবাইদাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি। ওই সময় তার কাছ থেকে নারীদের ১৬টি হ্যান্ডব্যাগ ছাড়াও ৪টি মুঠোফোন, ৫টি বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, অলংকারসহ বিভিন্ন সুপারশপের কার্ড এবং চারটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়।

হারুন অর রশীদ বলেন, মূলত জুবাইদা অভিজাত চোর। তার টার্গেট চাকরিজীবী নারী ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া নারী শিক্ষার্থীরা। ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, রেডিসন এবং সোনারগাঁওয়ের মতো অভিজাত হোটেলে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশ নিয়ে চুরি করতেন তিনি। সেই চোরাই জিনিস ব্যবহার করে অভিলাষী জীবনযাপন করতেন।

তিনি জানান, জুবাইদা দুটি বিয়ে করেছেন। বর্তমান স্বামীর চতুর্থ স্ত্রী তিনি। আর তার বর্তমান স্বামী সৌদি প্রবাসী। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে থাকলেও স্ত্রী জুবাইদাকে চুরি করা জিনিসপত্র বিক্রির ব্যবস্থা করে দিতেন তিনি।