অনড় জাবি শিক্ষার্থীরা, আলোচনার পর সিদ্ধান্ত জানাবে প্রশাসন

0
6

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়তে প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে হলে ওঠা শিক্ষার্থীরা। নিরাপত্তার কারণে তাদের গেরুয়াসহ আশপাশের এলাকায় যাওয়া সম্ভব না বলে তারা হলে থাকার কথাই জানিয়ে দিয়েছেন।এদিকে দুপুর ১২টার দিকে যখন এই প্রতিবেদন লেখা হচ্ছিল তখন প্রাধ্যাক্ষ কমিটির একটি সভা শেষে হলগুলোর প্রাধ্যাক্ষ হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চলে যেতে অনুরোধ করেছেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমও উপস্থিত ছিল। তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার বিজ্ঞপ্তির কথা মনে করিয়ে দিতেই তারা এসেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয়েছে হল ছেড়ে দেওয়ার জন্য। তারা যদি চলে যায় তাহলে তো ভালো। কিন্তু যেতে না চাইলে পরে আলোচনা করে কী করা যায়, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এর আগে রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার মধ্যে তাদের হল ছাড়তে বলা হয়েছিল। অন্যথায় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু ওই বিজ্ঞপ্তির পরপরই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছিলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের থাকার সুব্যবস্থা এবং গেরুয়া গ্যাংয়ের বিচার না করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিস, কোয়ার্টার, প্রক্টর স্যার, ভিসি ম্যামসহ সব বাসায় তালা মেরে দেওয়া হবে।’এদিকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত হল খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে হল না খুললে তারা হলের তালা ভেঙে প্রবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা হলে প্রবেশ করেননি। এদিকে হলে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে ছেলেদের আটটি হলে আস্তে আস্তে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে মেয়েদের আটটি হলে কেউ অবস্থান করছেন না বলে জানা গেছে।গত শুক্রবারের ওই সংঘর্ষের পর থেকে হল খুলে দেওয়ার দাবি করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু হল খুলে না দেওয়ায় রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ছয় দফা দাবিসহ হামলার ঘটনায় মামলা করতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। গতকালই রাত সাড়ে ৯টায় অজ্ঞাত ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের রহিমা কানিজের নির্দেশে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী সজল বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় এই মামলা করেন।মামলার বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবদুর রশিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দেয়া হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মামলা নেওয়া হয়।’গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে গত শনিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির আটটি ছাত্র হলে বেশকিছু শিক্ষার্থী অবস্থান করে আসছেন। 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে