চট্টগ্রামে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত

0
166

চট্টগ্রামে একদিনে রেকর্ড পরিমাণ অর্থাৎ ১২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে প্রতিষ্ঠিত ইনস্টটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকসাস ডিজিজেজ- বিআইটিআইডি ল্যাবে ১১৮ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে রাতে রোগীদের এই ফলাফল জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর।

এর মধ্যে ৫জন সাতকানিয়া উপজেলার। বাকিরা নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানের। এর আগে সাতকানিয়ার এক বৃদ্ধ করোনা শনাক্ত হওয়ার আগেই মারা গিয়েছিলেন।রাতে ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির সময় সংবাদকে বলেন, নতুন করে আরো ১২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। একদিনে চট্টগ্রামে এটিই সর্বোচ্চ। এখন তাদের শ্রেণী বিভাগ করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যে ১১ জন চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা, অপর একজন নোয়াখালীর।

এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট ২৭ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এক শিশু, এক নারী এবং এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষার কাজে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালনকারী স্বাচিপ নেতা ডা. আ ন ম মিনহাজুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে আসা পোশাক কারখানার মালিক এবং শ্রমিকরাই সাতকানিয়ায় করোনা ভাইরাস বিস্তারের ক্ষেত্রে বড় ধরণের ভূমিকা পালন করেছে। নিয়ম-নীতি না মানায় তাদের কারণে সেখানে সামাজিক সংক্রমণ  ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।গত ৩ এপ্রিল প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিলো। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ৬৭ বছরের বৃদ্ধ ছিলেন শনাক্ত হওয়া প্রথম করোনা রোগী। পরবর্তীতে ৫ই এপ্রিল তার ২৫ বছর বয়সী ছেলের শরীরেও করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। ৮ এপ্রিল আরো ৩ জনের শরীরে এবং ১০ এপ্রিল দু’জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিলো। আর ১১ এপ্রিলের পরীক্ষায় সাতকানিয়ার মারা যাওয়া বৃদ্ধসহ দু’জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। ১২ এপ্রিল শনাক্ত হওয়া দু’জনের মধ্যে ৬ বছরের এক শিশু মারা যায়। আর ১৩ এপ্রিল শনাক্ত হয়েছিলো আরো দু’জন। এদিনে শনাক্ত হওয়ার আগে এক নারীর মৃত্যু হয়।গত ২৫ মার্চ কিটসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনার পর ২৬ মার্চ থেকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা শুরু করে বিআইটিআইডি।এ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ জনের নমুনা সংগ্রহের পর এখানে পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আর গত তিনদিনে চট্টগ্রামে পরীক্ষায় লক্ষ্মীপুরের দু’জন এবং নোয়াখালীর একজন করোনা ভাইরাস রোগী হিসাবে শনাক্ত করা হয়।    নানা জটিলতার কারণে সাতকানিয়াতে করোনা ভাইরাস ভয়াবহ রকমভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশংকা করছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে গত কয়েকদিন আগে মারা যাওয়া বৃদ্ধের জানাজা’ও হয়েছিলো ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে। সেখান থেকে করোনা ভাইরাস সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে