চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে আন্তর্জাতিক কমিটির মতবিনিময়ে বক্তব্য রাখছেন ড. শিরীণ আখতার।

0
20

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকসহ ১০০ সাধারণ শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ তুলে দেবে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে আন্তর্জাতিক কমিটি’। এছাড়া, সংগঠনটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা দানকারী ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, জাতীয় চার নেতাসহ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশিষ্টজনদের নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে ‘স্মৃতি বৃক্ষরোপণ’-এর মধ্য দিয়ে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবার উদ্যোগ নিয়েছে।
আগামী ১৫ মার্চ, সোমবার, সকাল ১০টায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দফতরে সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান এবং পরবর্তীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারের সাথে আজ (১০ মাচ) মধ্যাহ্নে মতবিনিময়কালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে আন্তর্জাতিক কমিটির মহাসচিব লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি এসব কর্মসূচি উপস্থাপন করে বলেন, মূলত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের ৮ বিভাগের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ ছিলো আমাদের। করোনা মহামারীর কারণে এসব আয়োজন পেছাতে হয়েছে। শুরুর আয়োজনটির জন্য আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নিয়েছি।
এসব কর্মসূচির সূচনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেয়ায় কমিটির প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কমিটির অন্যতম সদস্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ সমার্থক। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের চিন্তা ও কর্ম বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে এক বিশেষ মর্যাদার স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর ব্যক্তিত্ব আর অর্জনের কাছে এদেশের অন্য সবকিছু ম্লান হয়ে গেছে। মহাকালের এই মহামানবের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না। প্রাসাদকেন্দ্রিক সাম্রাজ্যবাদ ও সামন্ততান্ত্রিকতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে তিনি মুক্তিকামী বাংলার জনতাকে দিয়েছেন একটি স্বাধীন মানচিত্র ও লাল সবুজের পতাকা।
বঙ্গবন্ধু লেখক সম্মিলন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি আরো বলেন, দেশে গুটিকয়েক কুলাঙ্গার ব্যতিত বঙ্গবন্ধু সবার। সারাবিশ্বে বঙ্গবন্ধুর জীবনী প্রচার ও কর্মযজ্ঞ এবং চেতনা প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ বেসরকারিভাবে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তার মাধ্যমে বিশ্বের অন্ততঃ ১০০ দেশে বঙ্গবন্ধুর জীবনঘনিষ্ঠ নানা বিষয় নিয়ে সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সম্মাননা প্রদানসহ বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব কর্মসূচি পালন করা হবে।
সারাদেশে তৃণমূলে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ চর্চার নিমিত্তে ‘ভ্রাম্যমাণ বঙ্গবন্ধু জাদুঘর’ করার পরিকল্পনাও রয়েছে উদ্যোক্তাদের। ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ পল্লী’ নামে একটি সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ঘোষণারও পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। যেটির কাজই হবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নে বহুমাত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক শওকত বাঙালি।
মতবিনিময়কালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর এস.এম মনিরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।